দামেস্ক/ওয়াশিংটন, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ — সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গতকাল (১৯ জানুয়ারি) একটি টেলিফোন আলোচনা হয়েছে। এই ফোনালাপ সিরিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্সির অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় নেতা সিরিয়ার অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষা, কুর্দি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।আলোচনায় বিশেষভাবে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি অধিকৃত অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সম্প্রতি কুর্দি নেতৃত্বাধীন SDF (Syrian Democratic Forces)-এর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেছে এবং একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শারা ও ট্রাম্প উভয়েই কুর্দি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, যাতে তারা সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই থাকতে পারে।
এছাড়া দুই নেতা ISIS -এর বিরুদ্ধে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, উভয় পক্ষই একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সিরিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।এই ফোনালাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে সিরিয়ার ওপর থেকে কয়েক দশকের অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এলাকায় সিরিয়া সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি এবং কিছু অস্থিরতার খবর এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনা সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এর সফলতা।
