নয়াদিল্লি: ছাব্বিশের বিধানসভার পারদ চড়িয়ে দিল্লির রাজপথে ফের একবার স্বমেজাজে ধরা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল থেকেই হেইলি রোডের বঙ্গভবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নজিরবিহীন উত্তেজনা। বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের অতি সক্রিয়তা এবং বাংলা থেকে যাওয়া প্রতিনিধিদের ‘হেনস্থা’র অভিযোগে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, দিল্লির পুলিশকে দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত
সকাল থেকেই বঙ্গভবনের চারপাশ কার্যত দুর্গে পরিণত করে দিল্লি পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ‘এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত’ ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। অভিযোগ ওঠে, পুলিশ তাঁদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং দুর্ব্যবহার করে। খবর পাওয়ামাত্রই বঙ্গভবনের সামনে এসে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তোপ
বঙ্গভবনের সামনে দাঁড়িয়েই মেজাজ হারান তৃণমূল নেত্রী। দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন:
“দালালি করবেন না। দিল্লি পুলিশের আচরণ দেখুন! এভাবে কাউকে আটকানো যায় না।”
তবে আক্রমণের সুর চড়া থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ পুলিশ কর্মীদের ওপর তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। বরং উপরতলার নির্দেশেই যে এই অতি সক্রিয়তা, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই। এটা ওদের দোষ নয়, ওপর থেকে নির্দেশ আসছে।”
প্রধান ঘটনাক্রম: এক নজরে
- সকাল ১০টা: বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের ব্যারিকেড ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন।
- বেলা ১১টা ৩০: পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও হেনস্থার অভিযোগ।
- দুপুর ১২টা ১৫: ঘটনাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং সরাসরি প্রতিবাদ।
- দুপুর ১টা: হেইলি রোডের পুরনো বঙ্গভবনে গিয়েও পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা।
রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চ্যালেঞ্জ জানানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

