নয়াদিল্লি, ১৬ ফেব্রুয়ারি: লোকসভায় চলমান অচলাবস্থা ও বিরোধীদের অভিযোগের মাঝে একটি নতুন মোড় নিয়েছে রাজনীতি। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিরলার অপসারণের জন্য একটি প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাবে প্রায় ১১৮-১২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে, যার মধ্যে কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, বাম দলসহ একাধিক INDIA জোটের শরিক রয়েছে। কিন্তু এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)।বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার ওম বিরলা ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ভাবে লোকসভার কার্য পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী সাংসদদের বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি।
এছাড়া গত সপ্তাহে আটজন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, যা বিরোধী শিবির ‘একতরফা’ ও ‘সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার’ বলে দাবি করছে। সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের অধীনে এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে লোকসভা সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে।তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দলের অপসারণের প্রস্তাবে সই করতে কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু এটিকে ‘শেষ অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তিনি বলেন, “প্রথমে স্পিকারের কাছে আমাদের অভিযোগগুলি লিখিতভাবে জানানো উচিত। তাঁকে সুযোগ দিতে হবে যাতে তিনি এই বিষয়ে সাড়া দেন। ‘সংযম’ (restraint) ও ‘গঠনমূলক’ (constructive) পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার।” অভিষেকের মতে, এই পদক্ষেপ ‘ক্যালিব্রেটেড’ হওয়া উচিত, না হলে বিরোধীদের দাবি দুর্বল হয়ে পড়বে।
তৃণমূলের এই অবস্থানকে অনেকে INDIA জোটের মধ্যে কৌশলগত স্বাধীনতা ও কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।এই ঘটনা INDIA জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূলের এই ‘সোলো পোসচার’কে দলের নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তারা কংগ্রেসের পিছনে না দাঁড়িয়ে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে চায়। অন্যদিকে, বিজেপি এই প্রস্তাবকে ‘বিবেকহীন’ বলে কটাক্ষ করেছে এবং দাবি করেছে যে বিরোধীরা রাজনীতি থেকে ‘ইমপিচ’ হওয়া উচিত।লোকসভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলে তা সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরীক্ষা হবে, যদিও অতীতে (১৯৮৭ সালের পর) এমন কোনও প্রস্তাব সফল হয়নি।
