দেরাদুন | উত্তরাখণ্ড: গত ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬-এর সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনের বিকাশ নগর এলাকায় এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৭-১৮ বছর বয়সী কাশ্মীরি যুবক তাবিশ আহমেদ। শাল ও অন্যান্য কাশ্মীরি পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে আসা এই তরুণ তার ভাই বা কাজিনের সঙ্গে একটি দোকানে স্ন্যাকস কিনতে গিয়েছিলেন। দোকানদার ও স্থানীয় কয়েকজন তার পরিচয় জানতে চান। তাবিশ যখন জানান যে তিনি কাশ্মীর থেকে এসেছেন এবং মুসলিম, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত করে অপমানজনক কথাবার্তা বলতে শুরু করেন এবং লোহার রড, লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেন।তাবিশের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, বাঁ-হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় ১১টি সেলাই লাগে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাকে দেরাদুনের দুন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বিশেষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার কাজিনও সামান্য আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনায় বিকাশনগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (এফআইআর নং ২৬/২০২৬), ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১৭(২) এবং ৩৫২ ধারায়। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় যাদবকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্য একজনকে খোঁজা হচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সমন্বয়ক নাসির খুয়েহামি এই ঘটনাকে কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের ওপর ক্রমাগত হামলার অংশ বলে বর্ণনা করেছেন। অনেকে এটিকে সাম্প্রদায়িক হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতির ফল বলে মনে করছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছে যে, কাশ্মীরি শিল্পকর্মের প্রশংসা হলেও কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রায়ই অস্বীকার করা হচ্ছে।এই ঘটনা দেশের সামাজিক ঐক্যের ওপর গভীর প্রশ্ন তুলেছে। কাশ্মীরি শাল বিক্রেতারা শীতকালে সারা দেশে এসে সৎভাবে জীবিকা অর্জন করেন, কিন্তু বারবার এমন হামলা তাদের নিরাপত্তাহীনতার মুখে ফেলছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

