উমর খালিদ ও শার্জিল ইমামের হেয়ারিং দ্রুত হওয়া উচিত : সাবেক প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়

উমর খালিদ ও শার্জিল ইমামের হেয়ারিং দ্রুত হওয়া উচিত : সাবেক প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়

জয়পুর ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ : গত ১৮ ই জানুয়ারী রাজস্থানের জয়পুরে লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের অনুষ্ঠিত ‘আইডিয়াস অফ জাস্টিস’ সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। ওই আলোচনা সভাতে  সাংবাদিক বীর সংঘভি প্রশ্ন করেন ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র মামলায় অ্যাকটিভিস্ট উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের জামিন খারিজের বিষয় নিয়ে। তিনি খুব সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়া নাগরিকের অধিকার। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুতর বিষয় জড়িত থাকলে আদালতকে খুব ভালো করে মামলাটা পরীক্ষা করতে হবে। সেখানে  উমর খালিদ আর শারজিল ইমাম দুজনেই ২০২০ সাল থেকে জেলে আছেন, প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও তাদের বিচার শুরু হয়নি। সম্প্রতি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট তাদের জামিন খারিজ করে দিয়েছে।চন্দ্রচূড় খুব সরলভাবে বলেন আমাদের আইনের মূল ভিত্তি হলো, কাউকে দোষী প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সে নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া। তাই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়া উচিত সবার অধিকার।
যদি কেউ পাঁচ-সাত বছর জেলে থেকে পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার হারানো সময়ের ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া যাবে?
জামিন খারিজ করা যায় শুধু তিনটা কারণে
১. জামিন পেলে আবার অপরাধ করার সম্ভাবনা থাকলে,
২. প্রমাণ নষ্ট করার ভয় থাকলে,
৩. জামিন পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে।
এই তিনটা না থাকলে জামিন দিতেই হবে।

তিনি আরও বলেন, বিচার যদি দ্রুত না হয়, তাহলে জামিনই হওয়া উচিত নিয়ম, ব্যতিক্রম নয়। কারণ সংবিধানে দ্রুত বিচারের অধিকার আছে।জাতীয় নিরাপত্তার কথা উঠলে তিনি সাবধান করে বলেন: “জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত থাকলে আদালতের দায়িত্ব হলো মামলাটা খুব গভীরভাবে দেখা। না হলে মানুষ বছরের পর বছর জেলে থেকে যায়।” তিনি আরো বলেন দেশ যখন ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বলে, তখন আদালতকে অন্ধভাবে মেনে না নিয়ে সবকিছু যাচাই করতে হবে বলে জোর দেন। তিনি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনেক সময় তারা জামিন দিতে ভয় পান, কারণ তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করেন। ফলে জামিনের মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলে আসে।এই আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এতে আমাদের বিচার ব্যবস্থার দেরি এবং জামিনের অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। চন্দ্রচূড়ের এই কথা অনেকের মনে আশা জাগিয়েছে যে, জেলে থাকা মানুষদের জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার দরকার।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply