উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্প শুরু করেছে যার অধীনে গোমূত্র ও গবাদি পশুর অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে ওষুধ প্রস্তুত করা হবে। সরকার জানিয়েছে, প্রাচীন আয়ুর্বেদ জ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ যাতে দৈনন্দিন জীবনে আরও বেশি প্রাকৃতিক ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্প।
প্রকল্পের আওতায় তৈরি হবে আয়ুর্বেদিক পণ্য যেমন—টুথপেস্ট, মরিচা, সিরাপ ইত্যাদি। এদের প্রধান উপাদান হবে ‘পঞ্চগব্য’, অর্থাৎ গরুর দুধ, দই, ঘি, মূত্র ও গোবরের মিশ্রণ। এর মধ্যে গোমূত্রকে বিশেষভাবে “উপকারী” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, গোমূত্র ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, বাত, হাঁপানি, সাইনাস, রক্তাল্পতা, ত্বকের রোগ সহ উনিশটি অসুখের বিরুদ্ধে কার্যকর। যদিও এই দাবিগুলি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে, তবে সরকার জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারপরই বাজারজাত করা হবে।
উত্তরপ্রদেশ গোসেবা কমিশনের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ড. অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন:
“এই ওষুধগুলি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তৈরি হবে। রোগীদের যেমন উপকার হবে, তেমনই এই প্রকল্প কাজ দেবে গোশালার কর্মী, কৃষক ও গ্রামীণ যুবকদের।”
তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত গোশালাগুলিও এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন রূপ পাবে ও আয় করতে পারবে।
এই উদ্যোগে AYUSH দপ্তর-ও সরকারের পাশে রয়েছে। এই দপ্তর আয়ুর্বেদ, ইউনানি, যোগ এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসার মতো ভারতের প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতিকে প্রমোট করে।
ড. শ্রীবাস্তব বলেন,
“গোমূত্রে প্রাকৃতিক নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে। আমরা বিজ্ঞান দিয়ে সেটিকে প্রমাণ করতে চাই যাতে মানুষ আরও বিশ্বাস করতে পারেন।”
যদিও অনেকেই এই উদ্যোগকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও গো-সংরক্ষণের পক্ষে সাহসী পদক্ষেপ বলছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা মহলের একাংশ সতর্ক করেছেন। তাঁদের বক্তব্য,
“এই ওষুধগুলি ব্যবহারের আগে, সরকারের উচিত পূর্ণাঙ্গ গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা।”
