হাফিজুর রহমান, কলকাতা: বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ড্রয়িং রুম— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জি নিউজ-এর সাংবাদিক সোমা মাইতির ওপর শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ। এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তোজিত জনতার ক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন সোমা ও তাঁর ক্যামেরাম্যান। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। কিন্তু এই ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকা রহস্য এবং তথ্যের অসঙ্গতি এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করছে।
সোমা মাইতির দাবি, উত্তেজিত জনতা তাঁকে দুই কিলোমিটার রাস্তা চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে গিয়েছে এবং শ্লীলতাহানি করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ক্যামেরাম্যানের মাথাও ফেটেছে। আপাতত তিনি একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। কিন্তু ঘটনার সচিত্র বিশ্লেষণ করলে উঠে আসছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তথ্যের গোলমাল ও রহস্য: ঘটনার সময়কার ছবি এবং পরবর্তী ভিডিওর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
- পোশাকের অসঙ্গতি: অভিযোগ করা হয়েছে যে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে, কিন্তু নার্সিংহোমে যাওয়ার সময় তাঁর মেরুন রঙের টি-শার্টটি একদম অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে।
- ব্যান্ডেজের বিভ্রান্তি: সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একবার বাঁ হাতে ও হাঁটুতে ব্যান্ডেজ, আবার কিছুক্ষণ পর বিছানায় শোয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে হলুদ টি-শার্ট এবং ডান হাতে স্লিং (Sling)।
একজন পেশাদার সাংবাদিকের এই ধরণের স্ববিরোধী আচরণ ও ছবির পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষ এখন আর অন্ধভাবে সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। টিআরপি-র ইঁদুর দৌড়ে নাম লেখাতে গিয়ে বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কি সত্যকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে?
বর্তমানে ‘গদি মিডিয়া’র ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস কমছে। নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার এই যে চেষ্টা, তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। চালাকি করে পার পাওয়া গেলেও, ক্যামেরার এই যুগে সত্য চাপা দেওয়া কঠিন। ময়ূরপুচ্ছধারী সাংবাদিকদের আসল রূপ আজ জনসমক্ষে পরিষ্কার।

