রাজ্য সরকার ওবিসি সংক্রান্ত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ওবিসি এ এবং বি তালিকায় পুনঃ বিন্যাস করেছে। ওবিসি এ তালিকা থেকে কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি বি তালিকায় এবং ওবিসি বি তালিকা থেকে কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি এ তালিকায় নিয়ে আসে। এই রদবদলের জন্য ওবিসি এ তালিকা থেকে বি তালিকায় নিয়ে আসা জনগোষ্ঠীররা সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেন। এবং তাদের পুনরায় এ তালিকায় নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এরই মাঝে তারা নিজেদের সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে বি তালিকা ভুক্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে নতুন সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করা শুরু করেন। সবার ধারণা ছিল খুব সহজেই তা হয়ে যাবে। সমস্ত কিছুই ঠিক থাকবে। কেবলমাত্র এ এর স্থানে বি লিখে দিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টো। নতুন ভাবে সমস্ত ডকুমেন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামান্য ত্রুটির অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ এ ভাগ লেখা সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে। নতুন ভাবে সার্টিফিকেট দিচ্ছে। এই ভাবে দেওয়ার জন্য প্রচুর সময় চলে যাচ্ছে। সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ চলছে অস্বাভাবিক ধীর গতিতে। ফলে যারা আশা করেছিল নতুন ভাবে সার্টিফিকেট নিয়ে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করবেন তারা হতাশ হচ্ছে। সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই সুযোগ সুবিধার সময় সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। দরকার ছিল জরুরী ভিত্তিতে কাজের সময় বৃদ্ধি করে, অথবা অন্য বিভাগের কাজ কমিয়ে এ কাজের দায়িত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সার্টিফিকেট প্রদানের কাজ সম্পন্ন করা। কিন্তু সরকার সে কাজ তো করছেই না, বরং কাজের দিন কমিয়ে সপ্তাহে মাত্র এক দিন সার্টিফিকেট প্রদান সংক্রান্ত কাজের জন্য বরাদ্দ করেছে।
যারা ওবিসি নিয়ে কাজ কর্ম করছেন তারা এই বিষয়টি নিয়ে কোন কিছু ভাবছেন বলে মনে হচ্ছে না। এখন দরকার ওবিসি নিয়ে কাজ করছেন এমন সব ব্যক্তি, সংগঠন, দল মিলিত ভাবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে সরকার খুব দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে অনেকগুলো সংগঠন কাজ করে এবং ওবিসি সমাজের মানুষের সংখ্যা বেশি। সব সংগঠন মিলে উত্তরবঙ্গে এক দিনের বনধ ডাকতে পারত। তা হলে হয়তো নতুন বিন্যাস বন্ধ হয়ে আগের তালিকায় থাকত। একই দিনে সমস্ত এসডিও র কাছে গণ ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি গ্ৰহণ করা এবং জোরালো ভাবে দাবি জানানো যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে হবে – এখনও এ কর্মসূচি গ্ৰহণ করা যেতে পারে।
অন্য একটি বিপদের সম্ভাবনাও আছে। যে ভাবেই হোক কিছু দিনের মধ্যে হয়তো সবাই ওবিসি বি সার্টিফিকেট পেল, কিন্তু তারপর সরকার আবার আইন পরিবর্তন করে এই জনগোষ্ঠীগুলোকে ওবিসি এ তালিকায় নিয়ে এল। তখন আবার তাদের নতুন সার্টিফিকেট নিতে হবে। ফলে নতুন করে আবার হয়রানির শিকার হবে। দৌড়ঝাঁপ করাই হবে। কোন সুফল পাবে না। বর্তমানে তাদের অবস্থা নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকার মতো। ওবিসি এ সার্টিফিকেট বাতিল। ওবিসি বি সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। এখন তারা আর ওবিসি ই নয়। ব্যাপারটা হল এ রকম, আগের স্কুল টি সি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন স্কুল ভর্তি নিচ্ছে না। আমি এখন আর কোন স্কুলেরই ছাত্র নই। ফলে বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার ছিল ওবিসি নিয়ে কাজ করা দলগুলোর।

জানা গেছে প্রোগ্ৰেসিভ ইন্টেলেকচুয়াল অফ বেঙ্গল বা পিআইবি নামের একটি সংগঠন বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে তারা ডেপুটেশন দিচ্ছে। কিন্তু তারা এমন সব প্রতিনিধিদের কাছে ডেপুটেশন দিচ্ছে যাদের মুখ্যমন্ত্রীকে তো দুরের কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে ফোন করার সাহস নেই। কয়েক দিন আগে মুর্শিদাবাদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছে। তারা স্পষ্টতই বলেছেন এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু বলতে পারবেন না। তবে ফিরহাদ হাকিমকে জানাবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলার চেষ্টা করেন বিভিন্ন ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তখন তারা কিছুটা রাগতো স্বরে বলেন তা হলে আপনারা বিজেপিকে আনতে চাইছেন।
আবার অনেকেই অভিযোগ করছেন এই পিআইবি র নেতা মানাজাত আলি বিশ্বাস সামনে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার জন্য বাজার তৈরি করছেন। একই অভিযোগ রয়েছে পিস নামক একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। বাকি ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সমস্যাটি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণাই নেই। অথচ তারা বিষয়টি নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে এবং সরকারকে বাধ্য করতে পারে সমস্যার সমাধান করতে।
মতামত লেখকের নিজস্ব। তায়েদুল ইসলাম একজন লেখক, সমাজকর্মী এবং রাজনৈতিক কর্মী।


Pingback: মুসলিম ওবিসিরা এখন ” নো ম্যানস ল্যান্ড” এ – DINKAL.IN