নয়াদিল্লি/পাটনা: বিহারের স্বতন্ত্র সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবকে ৩১ বছরের পুরোনো একটি জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা জানাল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI)। দলটির ন্যাশনাল অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট মহম্মদ শফি এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মধ্যরাতে পাটনার মান্দিরি এলাকায় পাপ্পু যাদবের বাসভবনে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। ১৯৯৫ সালের একটি পুরোনো অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি ছিল গার্ডনিবাগ থানায়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে তিনি মালিকের অজান্তেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেটিকে এমপি অফিসে রূপান্তর করেছিলেন।
SDPI-এর মতে, তিন দশক আগের একটি মামলাকে হঠাৎ সক্রিয় করে তোলা আসলে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করার একটি অপকৌশল।
বিবৃতিতে মহম্মদ শফি উল্লেখ করেছেন যে, এই গ্রেফতারির সময় অত্যন্ত রহস্যজনক। সম্প্রতি পাটনার শম্ভু গার্লস হোস্টেলে এক নিট (NEET) পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে সরব হয়েছিলেন পাপ্পু যাদব। তিনি নারী নিরাপত্তা, হোস্টেলের অব্যবস্থা এবং বিহার সরকারের গাফিলতির বিরুদ্ধে সংসদ ও রাজপথে জোরালো দাবি তুলছিলেন।
“সিস্টেমের ব্যর্থতা ফাঁস করা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কারণেই কি এই গ্রেফতারি? এটি স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা,” বলেন মহম্মদ শফি।
গ্রেফতারির সময় পুলিশের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছে SDPI:
- পোশাকহীন (সিভিল ড্রেস) পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।
- পুলিশি অসদাচরণ এবং সাংসদের জীবননাশের হুমকির অভিযোগ।
- সুপ্ত মামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচকদের টার্গেট করা।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া নিম্নলিখিত দাবিগুলো জানিয়েছে:
১. পাপ্পু যাদবকে অবিলম্বে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে।
২. এই গ্রেফতারির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
৩. আইনি ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বন্ধ করতে হবে।
মহম্মদ শফি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করে, তাদের কণ্ঠ এভাবে দমন করা যাবে না।
