ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহর একক চেষ্টার গোল, তার ঠিক আগেই ৮৮তম মিনিটে ইতালীয় সুপার সাব ফেদেরিকো কিয়েসার ভলি! দেখে মনে হচ্ছিল যেন ২-২ গোলে ড্র হয়ে যেতে পারে, কিন্তু আর্নে স্লটের দলের শেষ মুহূর্তের এই দুই গোল নিশ্চিত করল প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নদের জয় ।
অ্যানফিল্ডে নিজেদের শিরোপা রক্ষার যাত্রা শুরু করেছে স্বপ্নের মতো। নতুন সিজনের প্রথম ম্যাচেই চারটি নতুন স্বাক্ষরকৃত খেলোয়াড়ের অভিষেক – ফ্লোরিয়ান ভিৎস, জেরেমি ফ্রিমপং, মিলোস কের্কেজ এবং হুগো একিতিকে। এটিই প্রথম উদাহরণ ১৯৯২-৯৩ সিজনের পর থেকে যখন রিইগনিং চ্যাম্পিয়নরা তাদের উদ্বোধনী দিনে চারজন নতুন খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছে।
প্রথম হাফেই লিভারপুল এগিয়ে গিয়েছিল। ৩৭তম মিনিটে ফরাসি স্ট্রাইকার হুগো একিতিকের প্রথম প্রিমিয়ার লীগ গোল। ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস পেয়ে বোর্নমাউথের ডিফেন্স ভেদ করে স্থিরভাবে বল নেটে পাঠালেন নতুন ইনজিনিয়ার। দ্বিতীয় হাফে ৪৯তম মিনিটে একিতিকেরই সহায়তায় কোডি গাক্পো দ্বিতীয় গোলটি করেন, বাম উইং থেকে কেটে এসে নিখুঁত ফিনিশিং দেখান।
কিন্তু বোর্নমাউথ মোটেও হাল ছেড়ে দেয়নি। ৬৪তম মিনিটে ডেভিড ব্রুকসের চমৎকার ক্রস থেকে অ্যান্টনি সেমেনিয়ো প্রথম গোলটি করেনকরেন। মজার বিষয় হলো, এই ম্যাচে সেমেনিয়ো প্রথম হাফেই বর্ণবাদী গালিগালাজের শিকার হয়েছিলেন একজন দর্শকের কাছ থেকে, যার কারণে খেলা প্রায় ৪ মিনিট বন্ধ থাকে। যেই ব্যক্তি তাকে গালমন্দ করেছিল, তার বিরুদ্ধেই প্রতিশোধ নিয়েছেন সেমেনিয়ো তার খেলা দিয়ে।
৭৬তম মিনিটে আরও নাটকীয় হয়ে উঠল ম্যাচটি। সেমেনিয়ো প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে দৌড়ে গিয়ে ইব্রাহিমা কোনাতেকে ঘুরিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন, স্কোর হয় ২-২। এই গোলে ভ্যান ডাইকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তিনি সেমেনিয়োকে অনসাইডে রেখে দিয়েছিলেন।

যখন মনে হচ্ছিল লিভারপুল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচেই পয়েন্ট হারাতে পারে, তখনই এসেছিল নাটকীয় মোড়। আর্নে স্লট ৮২তম মিনিটে ফেদেরিকো কিয়েসাকে মাঠে নামান। মাত্র ছয় মিনিট পরেই এই ইতালীয় উইঙার একটি চমৎকার ভলি দিয়ে লিভারপুলকে আবার এগিয়ে দেন ৮৮তম মিনিটে।
শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে সালাহর একক প্রচেষ্টার গোল পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে দেয়। মিশরীয় তারকা বাম দিক থেকে কেটে এসে দুর্বল পায়ে দূরের কোণে নিখুঁত শট দেন। এটি ছিল প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী দিনে তার নবম গোল, যা একটি রেকর্ড।
এই জয়ে লিভারপুল তাদের শিরোপা রক্ষার যাত্রা শুরু করেছে দুর্দান্তভাবে। স্লটের প্রথম সিজনেই গত মৌসুমে ২০তম লীগ শিরোপা জিতেছিল দলদল। এবার ২৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে নিয়ে এসেছেন নতুন তারকাদের – ভিৎস, একিতিকে, ফ্রিমপং, কের্কেজ।
দিয়েগো জোটা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল এটি অ্যানফিল্ডে। ম্যাচের আগে ও পরে তাদের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, নতুন স্বাক্ষরকৃত খেলোয়াড়দের চমৎকার প্রদর্শনী, এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা – সবমিলিয়ে এই ৪-২ জয় লিভারপুলের নতুন সিজনের জন্য একটি উৎকৃষ্ট শুরু। এরপর অপেক্ষা নিউক্যাসেল, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের।
আর্নে স্লটের এই দল যেভাবে শুরু করেছে, তাতে ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপার স্বপ্ন দেখতেই পারে লিভারপুল সমর্থকরা।
তবে যাই হোক!
You will never walk alone.
