সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন! মুর্শিদাবাদে খবর শেয়ার করায় পুলিশের নোটিশ: আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন আইনজীবী

সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন! মুর্শিদাবাদে খবর শেয়ার করায় পুলিশের নোটিশ: আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন আইনজীবী

মুর্শিদাবাদ: প্রকাশিত খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মতো মৌলিক অধিকার প্রয়োগের দায়ে এক ব্যক্তিকে পুলিশের তরফে হয়রানি করার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের সুতি থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পুলিশের বেআইনি পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবিতে সরাসরি সুতি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (Officer-in-Charge) কড়া আইনি নোটিশ পাঠালেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তুহিন শবনম।


আইনি নোটিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সামান্য একটি প্রকাশিত সংবাদ (যা ‘পুবের কলম ডেইলি’ পত্রিকায় প্রকাশিত) হুবহু শেয়ার করার জন্য তার মক্কেল মাহফুজুর রহমানকে unwarranted নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার অধিকার (সংবিধানের ১৯(১)(ক) ধারা), সমতার অধিকার (ধারা ১৪) এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (ধারা ২১)-এর চরম লঙ্ঘন।



আইনজীবী তুহিন শবনম তাঁর নোটিশে উল্লেখ করেছেন, মাহফুজুর রহমান কোনো ভাবেই খবরের বিষয়বস্তু পরিবর্তন, বিকৃত বা উস্কানিমূলক তথ্য যোগ করেননি। এটি একটি স্বীকৃত সংবাদপত্রের প্রকাশিত খবর যা শেয়ার করার জন্য CrPC, IPC বা IT আইনের কোনো ধারাতেই অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না।
নোটিশে শ্রেয়া সিঙ্ঘল বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া এবং অনুরাধা ভাসিন বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া-এর মতো সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, আইনসঙ্গতভাবে প্রকাশিত তথ্যের নিরীহ প্রচার বা বিতরণকে ফৌজদারি দায়বদ্ধতার আওতায় আনা যায় না।

মাহফুুজুর রহমান



আইনি নোটিশে স্পষ্টভাবে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এই ধরনের কার্যকলাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবীর বক্তব্য, জেলার বিভিন্ন থানায় এই ধরনের বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত, সংবাদ বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।

আইনজীবী তুহিন শবনম

আইনজীবী তুহিন শবনম নোটিশে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করে নোটিশ জারির আইনি ভিত্তি জানাতে হবে। এ প্রসঙ্গে তাঁর কড়া বার্তা:
“সাংবিধানিক অধিকারের উপর এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আঘাত কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যদি পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বেআইনি পদক্ষেপ বন্ধ না করে এবং উপযুক্ত আইনি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আমার মক্কেলের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আমি অবিলম্বে কলকাতা হাইকোর্টে আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী রিট পিটিশন দাখিল করব। এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানানো হবে।”
নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, পুলিশের তরফে সঠিক প্রতিক্রিয়া না এলে, যাবতীয় আইনি পদক্ষেপের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ওপর বর্তাবে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply