নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: সাধারণ মানুষের পর এবার খোদ জনপ্রতিনিধি। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা SIR (Special Intensive Revision)-এর আওতায় এবার শুনানির নোটিশ পাঠানো হলো তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামকে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বীরভূমের দুনিগ্রামের বাসিন্দা সামিরুল ইসলামকে শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই নোটিশ পাওয়ার কথা জানিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবার স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই এই দেশের নাগরিক। অথচ আজ আমাদের মতো ভূমিপুত্রদের নাগরিকত্ব বা পরিচয় প্রমাণ করতে বিএলও-র দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে। এটি বাংলার মানুষকে হেনস্থা করার একটি পরিকল্পিত ছক।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা:
- তৃণমূলের অভিযোগ: শাসক দলের দাবি, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে এনআরসি-র (NRC) ছায়া তৈরি করার চেষ্টা করছে। সাংসদ সামিরুল ইসলাম যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক মানুষ ও পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন, তাই তাঁকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতেই এই নোটিশ।
- বিজেপির অবস্থান: গেরুয়া শিবিরের মতে, এটি একটি প্রশাসনিক রুটিন প্রক্রিয়া। ভোটার তালিকায় ভিনদেশি বা ভুল নাম বাদ দিতে কমিশন তার কাজ করছে, এখানে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।
সামিরুল ইসলাম কেবল একজন সাংসদই নন, তিনি পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান। আইআইটি (IIT) দিল্লির প্রাক্তন ছাত্র সামিরুল দীর্ঘদিন ধরে ‘বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যুক্ত। তাঁর মতো একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকে এই তালিকায় ফেলায় অনেকেই বিস্মিত।
