বিবেকের ‘অন্ত্যেষ্টি’ পালন! আসানসোলে ব্যান্ড বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদ কংগ্রেস কাউন্সিলরের

বিবেকের ‘অন্ত্যেষ্টি’ পালন! আসানসোলে ব্যান্ড বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদ কংগ্রেস কাউন্সিলরের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সচরাচর সরকারি দপ্তরে শুনানি মানেই গম্ভীর পরিবেশ, ফাইলের স্তূপ আর সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। কিন্তু সোমবার আসানসোলের এসআইআর (SIR) শুনানি কেন্দ্র দেখল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং ব্যান্ড পার্টির সানাই আর ড্রামের আওয়াজে কেঁপে উঠল চত্বর। মৃত মানুষের শেষযাত্রার আদলে এই ‘শোভাযাত্রা’ নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে এলেন কংগ্রেস কাউন্সিলর এস এম মুস্তফা।
কেন এই অকাল বাদ্যি?


এদিন আসানসোলের ওই শুনানি কেন্দ্রে কয়েকশো মানুষকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের হয়রানি আর প্রশাসনিক ‘জটিলতা’র প্রতিবাদ জানাতে কাউন্সিলর মুস্তফা যে পথ বেছে নিলেন, তা দেখে থমকে যান পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকরা। তার এই প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রশাসনের “বিবেকের মৃত্যু”। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক তীক্ষ্ণ শ্লেষাত্মক যুক্তি তুলে ধরেন:

  • ঐতিহ্যের দৃষ্টান্ত: মুস্তফা সাহেব মনে করিয়ে দেন, আগেকার দিনে কোনো অতি বৃদ্ধ মানুষের মৃত্যু হলে তাঁর জীবনকে উদ্‌যাপন করতে এবং শেষযাত্রাকে সম্মান জানাতে ব্যান্ড বাজানো হতো।
  • কর্তৃপক্ষকে কড়া তোপ: তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের ‘বুদ্ধি ও বিবেক’ লোপ পেয়েছে। তাঁদের এই সংবেদনহীনতাকে বিদ্রূপ করতেই তিনি শুনানির প্রক্রিয়াকে একটি ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’র সঙ্গে তুলনা করে ব্যান্ড বাজিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
  • হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ:
    প্রতিবাদটি নিছক প্রচারের আলো পাওয়ার জন্য নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। কাউন্সিলরের অভিযোগ, শুনানির নামে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। বয়স্ক থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ—সকলকেই অহেতুক প্রশাসনিক জটিলতার জালে ফাঁসিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।

“প্রশাসনের বিবেক যদি মরেই যায়, তবে তার অন্ত্যেষ্টি পালন করাই দস্তুর। আমরা আজ সেই কাজটাই করছি যাতে ওঁদের ঘুম ভাঙে,” বলেন ক্ষুব্ধ কাউন্সিলর।

এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য
হঠাৎ সরকারি অফিসের সামনে ব্যান্ড পার্টির উপস্থিতিতে এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমে যায়। শুনানি দিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রথমটায় হতভম্ব হয়ে গেলেও, পরে অনেকেই কাউন্সিলরের এই অভিনব প্রতিবাদের ভাষা সমর্থন করেন। তবে এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বয়ান পাওয়া যায়নি।
আসানসোলের এই ‘ব্যান্ড পার্টি’ প্রতিবাদ আপাতত শহরজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশাসনের সংবেদনহীনতার বিরুদ্ধে এটি একটি শক্তিশালী প্রতীকী প্রতিবাদ হয়ে রইল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply