নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট: উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সুন্দরবনের ‘রক্ষাকবচ’ ধ্বংস করার এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এল। বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ ও হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে হাই টেনশন বিদ্যুতের তার বসানোর নাম করে কয়েকশো প্রাচীন ও মূল্যবান গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে দিনের আলোয় এই পরিবেশবিরোধী কাজ চলায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসনাবাদ বনবিবি সেতুর ওপার থেকে রাস্তার দুই ধার বরাবর বিদ্যুতের খুঁটি ও হাই টেনশন লাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এই কাজের নাম করে রাস্তার ধারে থাকা বহু বছরের প্রাচীন ও মূল্যবান গাছগুলি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। কোনো বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়াই এই বৃক্ষছেদন চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি, কাটা গাছগুলি সুযোগ বুঝে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিবেশের ওপর আঘাত
সুন্দরবন এলাকা বারবার আয়লা, আম্ফান বা ইয়াসের মতো বিধ্বংসী সাইক্লোনের কবলে পড়েছে। প্রতিবারই এই বড় গাছগুলোই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে জনপদকে রক্ষা করেছে। সেই গাছ এভাবে কেটে ফেলায় পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই বিঘ্নিত হচ্ছে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বিজ্ঞান মঞ্চের হস্তক্ষেপ
গাছ কাটার খবর পেয়ে ‘ইছামতী বিজ্ঞান মঞ্চ’-এর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। তারা কার অনুমতিতে এই গাছ কাটছিল, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত সত্য জানতে:
- হাসনাবাদ ও হিঙ্গলগঞ্জ থানায় মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়েছে।
- মিনাখাঁ ও বসিরহাট বনদপ্তরের রেঞ্জ অফিসে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, এই গাছ কাটার কোনো সরকারি অনুমতি ছিল কি না।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এত বড় ঘটনা ঘটলেও তারা নীরব। কার স্বার্থে এবং কাদের মদতে এই মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। বনদপ্তর বা পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে সুন্দরবনের এই সীমান্ত অঞ্চল দ্রুত বৃক্ষহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
