ED কালকাতায় পার্ক স্ট্রিট থেকে নিউ আলিপুর পর্যন্ত, রাজ্যের বহু জেলায় হানা বালি পাচার কাণ্ডে

ED কালকাতায় পার্ক স্ট্রিট থেকে নিউ আলিপুর পর্যন্ত, রাজ্যের বহু জেলায় হানা বালি পাচার কাণ্ডে

Enforcement Directorate (ED) বালি পাচার মামলার অবৈধ অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতি তদন্তে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, ঝাড়গ্রাম-সহ আট জেলায় হানা দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাড়ি, অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তল্লাশি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ফের চার্জশিট দাখিল করেছে, যেখানে বহু কোম্পানি ও ব্যক্তির নাম রয়েছে

কলকাতা: Ananda Bazar এর প্রতিবেদন অনুযায়ী Enforcement Directorate-র আধিকারিকরা সোমবার সকাল থেকে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, নিউ আলিপুর ও আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায় অভিযান শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গেও মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ED সূত্রে জানা যায়, এই অভিযানটি বালি পাচার কাণ্ডে আর্থিক দুর্নীতি ও অর্থ লন্ডারিংয়ের সংযোগ খুঁজে পেয়ে করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযান থেকে বড় ধরনের কোনো গ্রেফতারির খবর পাওয়া যায়নি।

কলকাতা ছাড়াও, ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-এর আঠাঙ্গি গ্রামে একটি ব্যবসায়ীর বাড়িতে ED দল পৌঁছে তল্লাশি চালায়। রাত থেকে ধরে অভিযান চলে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও অন্যান্য জেলায়েও। ED-র তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তদন্তে হওয়া নথি বা ডিজিটাল প্রমাণগুলোর মাধ্যমে আরও বড় আর্থিক ধারার তথ্য পাওয়া যেতে পারে

গত নভেম্বর মাসে বালি পাচার মামলায় জনৈক ব্যবসায়ী অরুণ সরাফ গ্রেফতার হন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং তাঁর সল্টলেকে অফিসে আগেই ED তল্লাশি চালিয়েছে। তখনই ওই ব্যবসায়ীকে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি হাওড়ার বালি এলাকা থেকে আটক হন, যা বালি পাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু হওয়ার মুখ্য সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

Enforcement Directorate সম্প্রতি চার্জশিট দাখিল করেছে, যেখানে ১৪টি সংস্থা ও ৪ জন ব্যক্তি অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে। এই চার্জশিটে অরুণ সরাফের নামও রয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ED-র ধারণা, প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার অবৈধ বালি পাচার ও আর্থিক লেনদেন এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। চার্জশিটে প্রায় ৪৭০০ পাতার নথি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তদন্তকারীদের কাছে মূল প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে বলে জানা গেছে। আগামী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

tripuratimes.comএর প্রতিবেদন অনুযায়ী ED-র এই অভিযান পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতি, বালি পাচার ও অর্থ লন্ডারিং উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ বালি পাচার কেবল পরিবেশগত ক্ষতির কারণই নয়, এর সঙ্গে অন্য আর্থিক লেনদেনের অবৈধ নেটওয়ার্ক এবং হাওয়ালা শাখার মতো অর্থ পাচারের ধারাও যুক্ত থাকছে—যা তদন্তকারীদের আগের *হাওয়ালা লিঙ্ক তল্লাশির তথ্যের প্রেক্ষাপটে আরও গভীর তদন্তের দাবি তুলেছে।

সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনে এখন পর্যন্ত সরকারি সূত্র, ED-র তথ্য ও আদালতের দাখিলকৃত চার্জশিটের প্রাথমিক তথ্য ভিত্তিতে ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান, এবং আদালত বা তদন্ত সংস্থা থেকে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে খবর আপডেট করা হবে।


Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply