নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড, এসআইআর-এ গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ

নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গে সাত এইআরও-কে সাসপেন্ড, এসআইআর-এ গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ

নয়াদিল্লি/কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাতজন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিককে (এইআরও) অবিলম্বে সাসপেন্ড করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এসেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ধারা ১৩সিসি-র ক্ষমতাবলে এই সাসপেনশন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এসআইআর-এর সময় এই আধিকারিকরা অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুতর অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন। কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করতে হবে এবং এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের নাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভা কেন্দ্র নিম্নরূপ:ড. সেফাউর রহমান, কৃষি দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এবং ৫৬-সমসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (মুর্শিদাবাদ জেলা)।
নীতীশ দাস, রেভিনিউ অফিসার, ফরাক্কা এবং ৫৫-ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও।
দলিয়া রায় চৌধুরী, মহিলা উন্নয়ন আধিকারিক, ময়নাগুড়ি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং ১৬-ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (জলপাইগুড়ি জেলা)।
শেখ মুর্শিদ আলম, এডিএ, সুতি ব্লক এবং ৫৭-সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (মুর্শিদাবাদ)।
সত্যজিৎ দাস, যুগ্ম বিডিও এবং জয়দীপ কুন্ডু, এফইও—দু’জনেই ১৩৯-ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)।
দেবাশিস বিশ্বাস, যুগ্ম বিডিও এবং ২২৯-দেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (পশ্চিম মেদিনীপুর)।



এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এর আগে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একাধিকবার সংঘাত দেখা গিয়েছে, যার মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম যোগ-বিয়োগ, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি এবং সময়সীমা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টও এই প্রক্রিয়া নিয়ে শুনানি করেছে এবং কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে কোনও বাধা না ঘটে। এই সাসপেনশন রাজ্য প্রশাসনের উপর কমিশনের কড়া নজরদারির আরও একটি প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল জেলাগুলিতে ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply