নিজস্ব প্রতিবেদন: জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ—হাতি-মানুষের সংঘাত এরাজ্যের এক চিরস্থায়ী অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই সংকটে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত সেই পরিবারগুলো, যারা হাতির হামলায় পরিজন হারিয়েছেন কিংবা যাদের বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনের চাকরির আশ্বাস মিললেও, বাস্তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় দিন কাটছে শত শত মানুষের।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, হাতির হামলায় মৃত্যু হলে মৃতের পরিবারকে নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক সাহায্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার বা সমতুল্য কাজে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাল ফিতের ফাঁসে আটকে রয়েছে সেই ফাইল।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষকের কথায়, “ধারদেনা করে চাষ করেছিলাম, এক রাতেই হাতি সব শেষ করে দিল। ব্লক অফিস থেকে বন দপ্তর—সব জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু শুধু আশ্বাসই সার।” অন্যদিকে, পরিজন হারানো এক বিধবা মহিলার আক্ষেপ, “চাকরি পেলে সংসারটা অন্তত চলত, এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন গুজরান করতে হচ্ছে। বন দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, আবেদনপত্র যাচাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণেই কিছু ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীদের মতে, সদিচ্ছার অভাব এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাই এই বঞ্চনার মূল কারণ। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অবিলম্বে বকেয়া ক্ষতিপূরণ মেটানো হোক এবং প্রতিশ্রুতি মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের বাঁচার পথ করে দিক সরকার।
