একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী এবং তার পাঁচ মাসের শিশুকে আদালতের নির্ধারিত সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পশ্চিমবঙ্গের বাহারামপুর সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমে আটক রাখা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-কে একটি মানবাধিকার সংগঠন তৎপরভাবে অভিযোগ তুলেছে।
এই মামলার মূল অভিযোগ তুলে ধরেছেন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (MASUM)-এর সম্পাদক কিরিতী রায়। তিনি বলেন, ওই রোহিঙ্গা নারী, যিনি অভিযুক্ত নয় বরং মানব পাচার ও যৌন সহিংসতার শিকার হিসেবে এখানে রয়েছে, তাকে আদালতের দেওয়া সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে, যা “আইনের পরিপন্থী” এবং “বিধেয় মানবাধিকার লঙ্ঘন”।
আদালতের রায় ও আটক যোগাযোগ
MASUM-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই নারী আমিনা নামে পরিচিত। তিনি গত মে ২০২৫-এ পশ্চিমবঙ্গে পুলিশের হাতে আটক হন। পুলিশ অভিযোগ করে তিনি বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং India’s Foreigners Act, Section 14A অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়।
রানাঘাটের একটি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১,০০০ টাকা জরিমানা দেন। আমিনার বিরুদ্ধে এই রায় ২০২৫ সালের মধ্যেই কার্যকর হয়েছিল এবং জরিমানাও পরিশোধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা উল্লেখ করেছেন।
তবে এর পরেও, MASUM-এর দাবি অনুযায়ী, আমিনা এবং তার শিশুকে প্রায় দুই মাস অতিরিক্ত সময় ধরে কারাগারে রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আইন ও সংবিধানের মুল মানুষিক মুক্তির অধিকারবোধের পরিপন্থী বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
কেন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বিগ্ন,কিরিতী রায় বলেন, একজন মা ও তার নবজাতককে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও কারাগারে আটক রাখা “কোনো আইনি সমর্থন পায় না” এবং এটি ভারতের সংবিধানের ১৪ (সমতার অধিকার) ও ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা) নম্বর অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, “এই শ্রমে থাকা অবস্থায় জন্ম নেওয়া তার শিশু শুধুমাত্র তার মা-এর সঙ্গে আছে। সেই শিশুর কোনো অপরাধ বা সাজাও হয়নি — অথচ তাকে কারাগারে রাখা হচ্ছে।” এমন অবস্থায়, শিশু ও মায়ের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমান হারে রক্ষা করা উচিত বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
NHRC-তে MASUM-এর দাবিসমূহ
MASUM চিঠিতে স্পষ্টভাবে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে:
অবিলম্বে আমিনা ও তার শিশুকে মুক্তি দিয়ে সাজার মেয়াদ শেষে তাদের রাখা বন্ধ করা।
যদি দেশে ফিরিয়ে পাঠানো না যায়, তাহলে তাদের একটি নিরাপদ ও মানবিক কেন্দ্র বা শেল্টার হোম-এ রাখার ব্যবস্থা করা।
এই অতিরিক্ত সময়ে আটক রাখার কারণে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
এবং যারা আদালতের আদেশ কার্যকর করাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
এই ঘটনাটি মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে একটি জেনারেল উদ্বেগ তৈরি করেছে যে সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আটক রাখা হলে তা আইনের মৌলিক দর্শন — নরীলাভ ও ব্যক্তি-মুক্তির অধিকার — এর বিরুদ্ধ। বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিটি রোহিঙ্গা হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থা UNHCR-এর ক্যাম্প থেকে আসা, এবং তিনি মানব পাচারের শিকার হওয়া অভিযোগও রয়েছে — যেটি আরও মানবিক দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে।
এমন সময় যখন মানবাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে, চোখ এখন NHRC-র দিকে, যা এই অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত ও পদক্ষেপ নেবে কি না, তা দেখতে হবে।
