কলকাতা|জানুয়ারি ২৭, ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল একটি বিস্তারিত চিঠি জমা দিয়েছে। এই দলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার এবং বিরবাহা হাঁসদা। দলটি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পাঁচটি গুরুতর আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেছে এবং তাৎক্ষণিক সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
চিঠিতে প্রথম অভিযোগ হল, মাইক্রো-অবজার্ভারদের দ্বারা নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) অবৈধভাবে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়ম লঙ্ঘন করছে। দ্বিতীয়ত, “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি” বিভাগে চিহ্নিত ভোটারদের বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা অসংখ্য বৈধ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা। তৃতীয় অভিযোগ হল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অফিসিয়াল চ্যানেলের বাইরে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যা প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ করে তুলছে। চতুর্থত, “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি” শ্রেণীবিভাগকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে, যাতে হেরফেরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সবশেষে, সরকারি জমি/বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্রের মতো বৈধ সরকারি নথিগুলিকে নির্বিচারে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই প্রতিনিধি দল দাবি করেছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এইসব অনিয়মের ফলে লক্ষ লক্ষ ভোটার, বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা মাইক্রো-অবজার্ভারদের ভেটো ক্ষমতা প্রত্যাহার, নামের সামান্য অমিলের জন্য শুনানি বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে টিএমসির এসআইআর-বিরোধী অভিযানকে আরও তীব্র করে তুলেছে, যেখানে তারা দাবি করছে যে প্রায় ১.৩ কোটি ভোটারকে “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি” ফ্ল্যাগ দিয়ে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে রাজ্যে সরকার কিন্তু কেরালার মতো SIR বিরোধী আইন পাশ করেনি । রাজ্য চাইলে কেন্দ্র সরকারের বিরোধী আইন পাশ করতে পারে,তবে সেই আইন রাজ্যপাল স্বাক্ষর করতে হবে এবং তার পরে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করতে হবে। যদি রাজ্যে জোর করে এই বিল আইনে পরিবর্তন করতে চাই তাহলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু হয়ে যায়। রাজ্য ওই পরিমাণ ঝুঁকি নিয়ে নিজের ক্ষমতা হারাতে রাজি নয়।

