বন্ধুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ: মরদেহ নিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধে উত্তাল মানিকচক

বন্ধুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ: মরদেহ নিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধে উত্তাল মানিকচক

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ফেক ফেসবুক আইডি খোলাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে বন্ধুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল মালদহের মানিকচক থানার অন্তর্গত সাহেবনগর এলাকা। মৃতদেহ রাজ্য সড়কের ওপর রেখে, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। মানিকচক থানার চৌকি মীরদাদপুর অঞ্চলের সাহেবনগর এলাকার বাসিন্দা সাহেল নামে এক যুবকের ছবি ব্যবহার করে একটি ‘ফেক’ ফেসবুক প্রোফাইল চালানোর অভিযোগ ওঠে তার বন্ধু আমরাজের বিরুদ্ধে। সাহেল বিষয়টি জানতে পেরে রবিবারে আমরাজের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং ফেক আইডিটি বন্ধ করার দাবি করে।

​এই নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে তুমুল বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় আমরাজ, তার বাবা সেখ ফিজুর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মিলে লাঠিসোটা ও বাঁশ দিয়ে সাহেলকে বেধড়ক মারধর করে।

​মৃত্যু ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

​গুরুতর আহত অবস্থায় সাহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার সাহেলের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সাহেলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া ক্রোধে পরিণত হয়।

​গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিচার চেয়ে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেন:

  • রাস্তা অবরোধ: ধরমপুর স্ট্যান্ডে মালদহ-মানিকচকগামী রাজ্য সড়কের ওপর মরদেহ রেখে পথ অবরোধ করা হয়।
  • অগ্নিসংযোগ: রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শয়ে শয়ে মানুষ।
  • দাবি: বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই খুনের ঘটনায় জড়িত আমরাজ এবং তার পরিবারের সকল সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাদের ফাঁসির সাজা দিতে হবে।

​বর্তমান পরিস্থিতি

​দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার ফলে রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মানিকচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকাটি এখনও থমথমে।

​”আমার ছেলেকে ওরা পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।”

মৃত সাহেলের পরিবার

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply