নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণগঞ্জ: ‘বিধায়ককে খুঁজে দিন’— এই মর্মেই পোস্টার পড়ল নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায়। বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক আশীষ কুমার বিশ্বাসের ছবি সম্বলিত এই পোস্টারগুলিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের নানা প্রান্তে। পোস্টারের নিচে সৌজন্যে লেখা রয়েছে ‘কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার সচেতন নাগরিক সমাজ’।
পোস্টারের বিষয়বস্তু ও জনমত
উদ্ধার হওয়া পোস্টারগুলিতে বিধায়ককে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘ধাপ্পাবাজ’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। এমনকি ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বিধায়ককে খুঁজে দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে। তবে এই ধরনের পোস্টারকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভুনাথ সরকার বলেন, “বিধায়ক একজন ভালো মানুষ, তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। যারা এই কাজ করেছে তারা ঠিক করেনি। এর পেছনে শাসকদলের হাত থাকতে পারে।”
বিধায়কের পাল্টা তোপ
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক আশীষ কুমার বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল পায়ের তলায় মাটি হারিয়ে এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করছে। তিনি বলেন:
“তৃণমূল চক্রান্ত করে এই পোস্টার মেরেছে। কেউ বুক ঠুকে বলতে পারবে না আমি কারও থেকে এক পয়সা নিয়েছি। আমি আমার তহবিলের সমস্ত টাকা উন্নয়নের কাজে লাগাই। এমনকি এক কোটি টাকার বেশি কাজের অনুমোদন হয়ে আছে, যা কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে।”
তিনি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, কৃষ্ণগঞ্জ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি এবং ছাব্বিশের ভোটে বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে বুঝতে পেরে তৃণমূল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, পোস্টার বিতর্কে শাসকদলের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছেন কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি শুভদীপ সরকার। তবে পোস্টারের বিষয়বস্তু সঠিক বলে তিনি বিধায়ককে আক্রমণ করেন। শুভদীপবাবুর কথায়, “বিধায়ককে এলাকায় দেখতে পাওয়া যায় না। এসআইআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চললেও তাঁর দেখা নেই। তিনি মানুষের কাজ করেন না বলেই সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে এই পোস্টার মেরেছে।” তৃণমূল কর্মীদের এই কাজের সময় নেই দাবি করে তিনি পাল্টাসুর চড়িয়ে বলেন, খোদ বিজেপি কর্মীরাই বিধায়কের ওপর তিতিবিরক্ত।
সব মিলিয়ে, পোস্টার কেন্দ্রিক এই বিবাদকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন বেশ উত্তপ্ত।
