কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আজ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) দফতরে স্মারকলিপি জমা দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। যদিও পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পর্ষদ সভাপতি ড. গৌতম পালের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সভাপতি অনিবার্য কারণে অনুপস্থিত থাকায় ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে নওসাদ সিদ্দিকী পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন:
১. বন্ধ স্কুল পুনরায় চালু করা: ২০১২ সাল থেকে রাজ্যে প্রায় ২৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিকাঠামোর অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই স্কুলগুলো অবিলম্বে পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
২. শিক্ষক নিয়োগ: রাজ্যের ৪৯ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
৩. শিক্ষক শূন্যতা দূরীকরণ: প্রায় ২২০০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই বা মাত্র একজন শিক্ষক আছেন। এই স্কুলগুলিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য পর্ষদের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
৪. ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ: ২০২২ সালে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ৫২ হাজার পরীক্ষার্থী এখনো ইন্টারভিউয়ের ডাক পাননি। অবিলম্বে তাঁদের ইন্টারভিউ নিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
৫. শূন্যপদে নিয়োগ: বর্তমানে প্রায় দেড় লক্ষ শূন্যপদ থাকলেও সরকার মাত্র ১৩,৪২১টি পদে নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।
এর প্রতিবাদে নওসাদ সিদ্দিকী অবিলম্বে আরও অন্তত ৩৭ হাজার শূন্যপদ ঘোষণা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।এছাড়া, কলকাতা কর্পোরেশন পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে।নওসাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পরিকল্পিতভাবে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাকে ধ্বংস করে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বৈষম্য তৈরি করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি পর্ষদ ও রাজ্য সরকার দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

