ওয়াও! মোমো গুদাম অগ্নিকাণ্ড: কলকাতার আনন্দপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ওয়াও! মোমো গুদাম অগ্নিকাণ্ড: কলকাতার আনন্দপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

কলকাতা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ২৬ জানুয়ারি ভোররাত্রে রবিবার রাত ৩টা নাগাদ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িয়ে পড়ে ওয়াও! মোমো-র মোমো তৈরির কারখানা ও গুদাম, যা পাশের একটি ডেকোরেটরের (পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরস) গুদামের সঙ্গে সংলগ্ন ছিল। আগুন প্রথমে ডেকোরেটর গুদাম থেকে শুরু হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গুদামে প্যাকেটজাত শুকনো খাবার, নরম পানীয়, পাম তেল এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল, যা আগুনের তীব্রতা বাড়িয়েছে।মৃতের সংখ্যা প্রথমে ৩ থেকে বেড়ে ৮, তারপর ১১ এবং সর্বশেষ ১৬-এ পৌঁছেছে। ২০-এরও বেশি ব্যক্তি নিখোঁজ, উদ্ধারকাজ চলছে। অনেক দেহ ঝলসে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণ হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ৩০-৪০ ঘণ্টা পরও সাইটে পকেট ফায়ার ও ধোঁয়া ছিল। দমকলের ১৫-৩০টি ইঞ্জিন কাজ করেছে, কলকাতা পুরসভার ফায়ার ব্রিগেড দল দেয়াল ভেঙে ধোঁয়া বের করেছে।

ওয়াও! মোমো-র অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট (@Wowmomo4u) থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে,  মূল্যবান কর্মীর মৃত্যুতে তারা গভীর শোকাহত। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কোম্পানি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ, আজীবন মাসিক বেতন এবং সন্তানদের শিক্ষার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কোম্পানি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও জনমতের অভিযোগ, কারখানায় ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ছিল না, জরুরি বহির্গমনের অভাব ছিল এবং শ্রমিকদের লক করে রাখা হয়েছিল (চুরির ভয়ে)। কোম্পানির বিরুদ্ধে অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।

কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, কারখানাটি ওয়েটল্যান্ডে অবৈধভাবে তৈরি হয়েছে। ওয়াও! মোমো-র কর্তৃপক্ষ এখনও এসব অভিযোগের বিস্তারিত জবাব দেয়নি, তবে তারা তদন্তে সহযোগিতার কথা বলেছে।

ইতিমধ্যে পুলিশ নরেন্দ্রপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে। ডেকোরেটর গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস (পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরস)-কে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে। তিনি বারুইপুর আদালতে তোলা হবে। গঙ্গাধর দাস দাবি করেছেন যে আগুন ওয়াও মোমো কারখানার অবহেলার কারণে লেগেছে এবং তার ব্যবসা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।ওয়াও মোমো কোম্পানির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ (অবহেলাজনিত মৃত্যু) দায়ের হয়েছে।

তবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানির কোনও মালিক বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত চলছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারকে প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা এক্স-গ্রেশিয়া ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে।জনপ্রতিক্রিয়া ও প্রভাবসোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ।

#BoycottWowMomo হ্যাশট্যাগে বয়কটের ডাক, অনেকে এটিকে ‘কর্পোরেট হত্যাকাণ্ড’ বলছেন। অভিযোগ উঠেছে যে শ্রমিকদের জীবনের চেয়ে লাভ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, কোম্পানির মালিকরা (মারওয়ারি ব্যাকগ্রাউন্ড) এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রশ্ন উঠেছে।এই ঘটনা কলকাতার শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার লাইসেন্স ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুলেছে। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে, রিপোর্ট প্রকাশিত হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। পরিবারগুলির দাবি – দ্রুত ক্ষতিপূরণ, দোষীদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply