
কৃষ্ণনগর । ওয়াসিম আকরাম। ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধনী কর্মসূচি। জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা নিজে উপস্থিত থেকে পতাকা নেড়ে সূচনা করেন এই যাত্রার। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, অমিত মাল্ব্যা সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। তবে প্রত্যাশিত জনসমাগমের অভাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ফাঁকা চেয়ার ও রাজনৈতিক বার্তা
অনুষ্ঠানস্থলে বহু চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জনসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল না। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও দাবি করেছে, এটি ছিল সাংগঠনিক সূচনা এবং বুথস্তরের কর্মীদের সক্রিয় করার প্রক্রিয়া। শুরুতে জনগণের ভিড় থাকলেও নাড্ডার হিন্দিতে বক্তব্য শুরু হতেই জনগণ বেরোতে চালু করেদেই। কিন্তু বিরোধীরা একে “মাঠের বাস্তবতা” বলেই ব্যাখ্যা করছে।
SIR 2026 ও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ
এই কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। ‘SIR 2026’ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বহু হিন্দু ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন উপস্থিত কিছু মানুষ। তাঁদের দাবি, সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছিল বুথস্তরের কর্মীদের মারফতে।

কয়েকজন অভিযোগ করেন, “গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণেই আমাদের নাম কাটা হয়েছে।” যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি নথি বা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সামনে আসেনি, তবু ঘটনাস্থলে এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছিলেন, আর তারই জেরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সংগঠনের চ্যালেঞ্জ না কি রাজনৈতিক অসন্তোষ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসন্তোষ যদি বাস্তবেই বড় আকার নেয়, তবে তা নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।
পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধনী দিনের চিত্র তাই দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে—একদিকে ফাঁকা আসনের ছবি, অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভের দাবি। বিজেপি নেতৃত্বের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ, এই অভিযোগগুলির যথাযথ উত্তর দেওয়া এবং মাঠের সমর্থন পুনর্গঠনের পথ খোঁজা।
রাজনীতির ময়দানে জনসমর্থনই শেষ কথা। সেই সমর্থন কতটা বাস্তব এবং কতটা প্রতীকী—তারই পরীক্ষার সূচনা যেন হয়ে গেল এই ‘ফাঁকা আসন’-এর মধ্য দিয়ে।