নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই তপ্ত পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। সোমবার রানিগঞ্জের নিমচা কোলিয়ারি এলাকায় জনসংযোগে গিয়ে স্থানীয়দের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে সরব হয়।
বিক্ষোভের মুখে বিধায়িকা
এদিন অগ্নিমিত্রা পাল নিমচা এলাকায় পৌঁছাতেই স্থানীয় মহিলাদের এক বড় অংশ তাঁকে ঘিরে ধরেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে বিধায়িকাকে পাশে পাওয়া যায়নি। এক বিক্ষোভকারী মহিলা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এখানকার মানুষ বেঁচে আছে না মরে গেছে, তা দেখতে পাঁচ বছরে একবারও উনি আসেননি।” স্থানীয়দের একাংশ বিজেপি কর্মীদেরও পথ আটকে প্রশ্ন করেন, কেন শুধুমাত্র ভোটের সময়ই তাঁদের দেখা মেলে? এলাকায় উন্নয়নের কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তুলে নিমচা কোলিয়ারির মানুষ “জয় বাংলা” এবং “বিজেপি হটাও দেশ বাঁচাও” স্লোগান দিতে শুরু করেন।
স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে রণক্ষেত্র নিমচা
পরিস্থিতি সামলাতে পালটা মেজাজে ধরা দেন অগ্নিমিত্রা পালও। বিক্ষোভের মাঝেই তিনি এবং বিজেপি কর্মীরা “চোর মমতা হায় হায়” স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর জবাবে স্থানীয়রা তালিবাজিয়ে উচ্চস্বরে “বিজেপি হায় হায়” স্লোগান দিতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই বাক্যযুদ্ধ।
তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো সাজানো ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষই বিধায়িকাকে তাঁর কাজের হিসাব চেয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানিগঞ্জ ব্লকে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এলাকার সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।
