মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা ব্লকের তারানগর গ্রামে গত তিন বছর ধরে চলা পদ্মা ভাঙ্গন এ বছর এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জানা যায়, এ বছর পুরো তারানগর গ্রামটি পদ্মা গ্রাসে তলিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি রঘুনাথগঞ্জের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামটিও এখন প্রায় শেষ সীমায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছেন।
ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI)-এর স্বেচ্ছাসেবী দল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত ঘরবাড়িগুলির আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা নিরলসভাবে সহযোগিতা করেছেন।
সম্প্রতি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা পেরিয়ে গেলেও, উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে SDPI-এর লালগোলা বিধানসভার স্বেচ্ছাসেবী দল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আসন্ন উৎসবগুলিতে এই পরিবারগুলিকে আনন্দমুখর করে তোলা। সেই লক্ষ্যেই গত শনিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে লালগোলা ব্লকের রাধাকৃষ্ণপুরে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এই বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলার সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম এবং লালগোলা বিধানসভা কমিটির সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান সহ কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীল সদস্য ও কর্মীরা। এই কর্মসূচিতে প্রায় ১৮০ জন শিশু ও বৃদ্ধকে নতুন বস্ত্র প্রদান করা হয়।
লালগোলার পদ্মা ভাঙ্গনকে কেন্দ্র করে SDPI-এর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। কর্মীরা দিনরাত এক করে মানুষের পাশে থেকেছে। রাত বারোটার সময়েও উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে তারা। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েও সহযোগিতা করা হয়েছে।
SDPI-এর নেতাদের মতে, তারা ভারতকে একটি পরিবারের মতো মনে করেন। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা সমস্যায় পড়লে যেমন সকলে বিচলিত হয়, ঠিক তেমনই তাঁরাও দেশকে নিজেদের পরিবার ভেবে মানুষের পাশে দাঁড়ান। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ছাড়াও SDPI দেশের বিভিন্ন পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্দোলন করে থাকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও COVID-১৯ অতিমারীর সময়ে SDPI-এর কর্মীরা প্রায় দশ হাজারেরও বেশি মুসলিম ও অ-মুসলিমদের মৃতদেহ তাদের নিজস্ব ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী সৎকার সম্পন্ন করে নজির তৈরি করেছিলেন। যখন পরিবারের লোকেরাও মৃতদেহ স্পর্শ করতে ভয় পাচ্ছিলেন, তখন SDPI-এর কর্মীরা এই কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

