বারাসত, ২১ আগস্ট:
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ঐতিহাসিক তিতুমীর সভাকক্ষের নাম পরিবর্তন করে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’ রাখা এবং দেওয়াল থেকে তিতুমীরের ছবি নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা সদর শহর জুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বুধবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে সভাকক্ষের নাম বদলের পাশাপাশি সেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর মিলেছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালের ২৬ জুন। অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলা ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এই জেলা পরিষদ গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেলা পরিষদের ওই সভাকক্ষটি ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’ নামে পরিচিত ছিল। বাদুড়িয়ার বাসিন্দা স্বাধীনতা সংগ্রামী তিতুমীর, যাঁর প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী, ঊনবিংশ শতকের বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। জমিদারদের অত্যাচার এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করে লড়াই পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, বুধবার জেলা পরিষদের তিতুমীর সভাকক্ষেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে ‘অখণ্ড ভারত সংকল্প সপ্তাহ’ পালনের একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠান চলাকালীন সংগঠনের সদস্যরা সভাকক্ষের দেওয়াল থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামী তিতুমীরের ছবি নামিয়ে নেন এবং তার জায়গায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙিয়ে দেন। একই সঙ্গে সভাকক্ষের নাম পরিবর্তন করে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’ রাখার ঘোষণাও করা হয়।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা সঞ্জীব মাহাতো এ প্রসঙ্গে দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও হিন্দুদের সামাজিক জয় এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। অখণ্ড ভারতের সংকল্পকে সামনে রেখেই এই সভাকক্ষের নাম বদল করে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’ করা হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তিতুমীর সরাসরি হিন্দু বিরোধিতা করেছিলেন।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাসতের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের বক্তব্য, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীকে অপমান করে তাঁর ছবি সরিয়ে অন্য ছবি বসানো বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর বড় আঘাত। এই ঘটনায় অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট জনেরা। জেলা পরিষদের ঐতিহাসিক সভাকক্ষের নাম ও ছবি বদল নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতির তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে জেলা পরিষদ ভবনের কাছে অবস্থিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতেও মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের সদস্যরা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

