মস্কো, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: রাশিয়ান সরকার বুধবার মেটা-মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করার চেষ্টা চালিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থিত একটি অ্যাপে স্থানান্তরিত করা, যা সমালোচকদের মতে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই ব্লকের ফলে দেশের ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত ও নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন, যা নিরাপত্তার দিক থেকে পিছিয়ে যাওয়ার মতো পদক্ষেপ।
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) পোস্ট করে জানিয়েছে, “আজ রাশিয়ান সরকার হোয়াটসঅ্যাপকে সম্পূর্ণ ব্লক করার চেষ্টা করেছে, যাতে মানুষকে রাষ্ট্রীয় নজরদারি অ্যাপে নিয়ে যাওয়া যায়। ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগত ও নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা একটি পশ্চাদমুখী পদক্ষেপ, যা রাশিয়ার মানুষের নিরাপত্তা কমিয়ে দেবে। আমরা ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত রাখার জন্য সবকিছু করছি।” এই পোস্টে রুশ ভাষায়ও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।রাশিয়ান ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসকমনাডজর (Roskomnadzor) হোয়াটসঅ্যাপকে তাদের অফিসিয়াল ইন্টারনেট রেজিস্ট্রি থেকে সরিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অ্যাপটি দেশে অ্যাক্সেসযোগ্য হয়ে পড়েছে—ভিপিএন ছাড়া। এর আগে গত গ্রীষ্ম থেকেই হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, বিশেষ করে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে। ডিসেম্বরের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের গতি ৭০-৮০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ দেশীয় ‘সুপার অ্যাপ’ MAX-কে প্রচার করছে, যা চীনের WeChat-এর মতো মডেলে তৈরি। সমালোচকরা দাবি করেছেন যে এই অ্যাপে এনক্রিপশনের অভাব রয়েছে এবং এটি ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই পদক্ষেপ রাশিয়ার ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নীতির অংশ, যার অধীনে বিদেশি টেক কোম্পানিগুলিকে রুশ আইন মেনে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে। মেটার রাশিয়ায় কোনও প্রতিনিধি অফিস নেই এবং অবৈধ কনটেন্ট না সরানোর জন্য জরিমানা দেওয়া হয়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তাসকে বলেছেন, “এটি আইন মেনে চলার প্রশ্ন। মেটা যদি রুশ আইন মেনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপে আসে, তাহলে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় কোনও সম্ভাবনা নেই।”এই ঘটনা রাশিয়ার বিদেশি মেসেজিং অ্যাপের উপর ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা। এর আগে টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
