বার্সেলোনা, ৩০ জানুয়ারি: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে স্পেনের বার্সেলোনার বার্সেলোনেতা সমুদ্রসৈকতে (Barceloneta Beach) শত শত মানুষ একটি বিশালাকার প্রতিকৃতি উন্মোচন করেছেন। এই প্রতিকৃতির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ মিটার (প্রায় ১৮০ ফুট) এবং এতে হিন্দের মুখের ছবির পাশাপাশি বড় প্যালেস্তাইনি পতাকা ও ‘Free Gaza’s Children’ বার্তা স্থান পেয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গাজার শিশুদের দুর্দশার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে পালানোর সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে তাঁর পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হন। হিন্দ নিজে গাড়ির মধ্যে আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন করে প্যালেস্তাইন রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাঁর ভয়ার্ত কণ্ঠে বলা কথা—“আমি খুব ভয় পাচ্ছি, দয়া করে আসুন”—বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
তিন ঘণ্টা পর ইসরায়েলি অনুমতি পেয়ে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হলেও সেটিও হামলার শিকার হয় এবং হিন্দসহ অ্যাম্বুল্যান্সের দুই কর্মী নিহত হন। ১২ দিন পর তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক আর্কিটেকচারের তদন্তে গাড়িতে ৩০০-এর বেশি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।এই ঘটনা নিয়ে নির্মিত শর্ট ডকুমেন্টারি ‘The Voice of Hind Rajab’ ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিলভার লায়ন জিতেছে এবং অস্কার মনোনয়ন পেয়েছে। হিন্দের মা ওয়েসাম হামাদা (২৯) বার্সেলোনার এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “গাজার শিশুরা করুণা চায় না। তারা বাঁচার অধিকার চায়, ভয় ছাড়া ঘুমানোর অধিকার, বোমা ছাড়া খেলার অধিকার, বেড়ে ওঠার অধিকার—শুধু বেড়ে ওঠার অধিকার।”
জর্ডান-কানাডিয়ান অভিনেত্রী সাজা কিলানি, যিনি ডকুমেন্টারিতে একজন রেড ক্রিসেন্ট কর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, বলেন, “হিন্দ রজবের কণ্ঠ গাড়িতে থেমে যায়নি, সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।”এই প্রতিবাদ আয়োজন করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং সংহতি গোষ্ঠী। এটি গাজায় চলমান সংঘাতে শিশু হত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের অংশ। হিন্দের মৃত্যু আজও গাজার শিশুদের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

