
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নিউ ইয়র্ক ১ জানুয়ারি, ২০২৬
নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন অধ্যায় রচিত হলো। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জোসেফ ফ্লোরেসকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই মহানগরের মেয়র নির্বাচিত হন জোহরান মামদানি। নতুন বছরের প্রথম দিনেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আল-জাজিরা এবং পিবিএস নিউজ আওয়ারের তথ্যমতে, তিনি কেবল প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, বরং নিউ ইয়র্কের ইতিহাসের অন্যতম কনিষ্ঠ নগরপিতা।
প্রথা ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে মামদানির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় দুই দফায়। প্রথম শপথটি অনুষ্ঠিত হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ঠিক সূচনালগ্নে, অর্থাৎ রাত ১২টা ০১ মিনিটে। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি অত্যন্ত সাদামাটাভাবে নিজ বাসভবনে পরিবারের উপস্থিতিতে প্রথমবার শপথ নেন।
এরপর দ্বিতীয় এবং আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ওই দিনই দুপুর ১২টায় নিউ ইয়র্ক সিটি হলের উন্মুক্ত চত্বরে। প্রধান বিচারপতি রোয়েন উইলসন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ঘড়ির কাঁটায় যখন স্থানীয় সময় ঠিক দুপুর ১২টা, তখন হাজার হাজার উৎফুল্ল মানুষের উপস্থিতিতে এক নতুন নেতৃত্বের সূচনা হয়।
পিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের সময় মামদানি হাতে নিয়েছিলেন পবিত্র কোরআন মাজিদ। দৃশ্যটি অত্যন্ত প্রতীকী হলেও মার্কিন সাংবিধানিক বাস্তবতা এখানে স্পষ্ট—শপথ গ্রহণে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ বাধ্যতামূলক নয়। অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেক নেতা বাইবেল ব্যবহার করেছেন, আবার অনেকে কোনো ধর্মগ্রন্থ ছাড়াও শপথ নিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের মতো এখানেও মূল ভিত্তি হলো সংবিধান ও আইনের শাসন। তবে মামদানির এই পদক্ষেপটি আমেরিকার বহুত্ববাদী চরিত্রের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
মামদানি ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক অভিবাসী পরিবারের সন্তান। আফ্রিকায় জন্ম আর আমেরিকায় বেড়ে ওঠার সুবাদে তাঁর মধ্যে এক অনন্য বহুমাত্রিক পরিচয় ফুটে ওঠে। আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এক বছর আগেও তিনি সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু দক্ষিণ এশীয় ঘরানার ‘গ্রাসরুট’ বা তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতি—দুয়ারে দুয়ারে যাওয়া, ছোট সভা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এই অসাধ্য সাধন করেন। তাঁর প্রচারণার মূলে ছিল আবাসন সংকট, গণপরিবহন এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যাগুলো।
জোহরান মামদানির এই উত্থান প্রমাণ করে যে, ইতিহাস গড়তে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয় বাধা নয়, বরং সাহসী রাজনীতি এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক। নিউ ইয়র্ক আজ কেবল একজন নতুন মেয়র পেল না, পেল এক নতুন আশার দিগন্ত।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা (Al Jazeera News),পিবিএস নিউজ আওয়ার (PBS NewsHour)

