ইরানে বিক্ষোভে ৮ বছরের নিহত শিশুদের শরীরে ইজরায়েলি গুলি: ফরেন্সিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি

ইরানে বিক্ষোভে ৮ বছরের নিহত শিশুদের শরীরে ইজরায়েলি গুলি: ফরেন্সিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় নিহত হওয়া বেসামরিক শিশুদের দেহ থেকে ইজরায়েলি সামরিক মানের গোলা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা ফরেন্সিক পরীক্ষায় সামনে এসেছে। এই দাবিটি ইরানের নিরাপত্তা সম্পর্কিত একটি সূত্র TASS সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, এবং এই খবরটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে আরও গুরুতর পরিণত হয়েছে এবং এতে বহু লোক আহত ও নিহত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের উপর গোলাবর্ষণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ তীব্রভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন বড় শহরে সামাজিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে।


ইরানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে, একটি ৮ বছর বয়সী মেয়ে, যিনি ইসফাহানে পরিবারের সাথে বাজারে যাচ্ছিলেন, বিক্ষোভের সময় তীব্র গোলাবর্ষণে আহত হন এবং মারা যান। ফরেন্সিক পরীক্ষায় তাঁর দেহে পাওয়া গোলাগুলি ইজরায়েলি সামরিক মানের বলে চিহ্নিত হয়েছে। একইভাবে, ৩ বছর বয়সী মেলিনা আসাদি নামের এক শিশুর দেহেও একই ধরনের গোলা পাওয়া গেছে, যিনি কেরমানশাহে বাজার থেকে ওষুধ কেনার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ইরানি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এই গোলাগুলি বিশেষভাবে সামরিক ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয় এবং এগুলি সাধারণ সিভিলিয়ান গোলাগুলির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গোলা সংগ্রহ ও ব্যবহার সাধারণ বিক্ষোভ বা নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেখা যায় না; বরং এটি একটি পরিকল্পিত তৎপরতারই ইঙ্গিত দেয়।


ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫-এ শুরু হয় যখন সাম্রাজ্যিক রিয়াল মুদ্রার মান হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এতে সাধারণ জনগণের জীবিকা ও অর্থনৈতিক দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করে। দ্রুতই বিক্ষোভটি বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনসাধারণের অসন্তোষ আরো ক্রোধে পরিণত হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই বিক্ষোভে কিছু সশস্ত্র গ্রুপও অংশ নিচ্ছিল যারা বিক্ষোভের পটভূমিকে বাণিজ্যিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করছে। প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা বিরোধী কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন যে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগাচ্ছে।


এই খবরটি প্রকাশ হবার পর, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠেছে। বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, শিশুদের শরীরে সামরিক মানের গোলা পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ হতে পারে।

অনেকে এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছেন, কারণ শিশুদের উপর হামলা ও গোলাবর্ষণে তাঁদের হত্যার ঘটনা একটি গুরুতর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিক জনমতও এই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করেছে এবং পরিস্থিতির ন্যায্য তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।


ইরানের সরকার ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, এই দেশগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব সশস্ত্র উপাদান ও গোলাবারুদ সরবরাহ করছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের হাতে প্রাপ্ত প্রমাণ এই অভিযোগকে সমর্থন করে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস জানিয়েছেন, অস্ত্রধারীরা বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং সাধারণ জনগণের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে “দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে এই ঘটনার পেছনের সকল সত্য উদঘাটনের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।


এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর প্রভাব ভবিষ্যতে কেমন রূপ নেবে তা বিচার বিশ্লেষণে আগ্রহের বিষয়। শিশুদের মৃত্যু ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষুদ্র এবং বড় জনগোষ্ঠী উদ্বিগ্ন ও প্রতিক্রিয়াশীল।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply