তেহরান| ১ ফেব্রুয়ারি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই রবিবার একটি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তাহলে এবারের যুদ্ধ আর শুধু ইরান-আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে ইরান কোনও দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করতে চায় না, কিন্তু যে কেউ ইরানের ওপর আক্রমণ করলে বা হয়রানি করলে ইরানি জাতি তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রত্যাঘাত হানবে।এই বক্তব্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে এক সভায় দেওয়া হয়।
এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘বড় বড় ও শক্তিশালী জাহাজ’ ইরানের দিকে পাঠানোর কথা উল্লেখ করেছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা তেহরানের কাছে আরও উস্কানি হিসেবে দেখা হচ্ছে।খামেনেই তার বক্তব্যে আরও বলেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত যে, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে তাহলে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে।” তিনি ট্রাম্পের জাহাজ পাঠানোর হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ইরানি জাতি এ ধরনের হুমকিতে ভীত হয় না বা বিচলিত হয় না। ইরান কখনও আগ্রাসন শুরু করার পক্ষপাতী নয়, কিন্তু আক্রান্ত হলে তারা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও আইআরএনএ-সহ একাধিক সূত্রে এই বক্তব্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া খামেনেইয়ের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট @khamenei_ir -এ ইংরেজিতে সরাসরি পোস্ট করা হয়:
“The Americans should know if they start a war, this time it will be a regional war.”
এই হুঁশিয়ারি প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের মিত্র শক্তি হিজবুল্লাহ, হুথি বিদ্রোহী ও অন্যান্য গোষ্ঠী এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলি এটিকে আরও উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক তেহরান সফর করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইয়ের এই বার্তা শুধু আমেরিকার উদ্দেশেই নয়, এটি পুরো অঞ্চলের দেশগুলির প্রতিও একটি সতর্কবার্তা—যারা আমেরিকার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের ভূখণ্ডও যুদ্ধের আওতায় চলে আসতে পারে।

