
সিরিয়ার অর্থনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে ১ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে চালু হয়েছে নতুন নকশার ব্যাংকনোট। এই নতুন মুদ্রা প্রবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আসাদ পরিবারের শাসনের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আসাদমুক্ত নতুন ব্যাংকনোট ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে দামেস্কে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন এই মুদ্রা সিরিজের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। নতুন এই নোটগুলোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—এতে সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদ কিংবা তার বাবা হাফেজ আল-আসাদের কোনো ছবি নেই। এর বদলে সিরিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতীয় স্থাপত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন একটি নতুন ও স্বাধীন সিরিয়ার প্রতীকী পথচলা হিসেবে।
মুদ্রার পুনর্মূল্যায়ন ও অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা
বছরের পর বছর যুদ্ধ এবং চরম মুদ্রাস্ফীতির ফলে সিরিয়ান পাউন্ডের মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এই সংকট মোকাবিলায় মুদ্রার পুনর্মূল্যায়ন (Revaluation) করেছে সরকার। নতুন পদ্ধতিতে বিদ্যমান নোটগুলো থেকে দুটি শূন্য (০০) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাজারে এখন থেকে ১০, ২৫, ৫০, ১০০, ২০০ এবং ৫০০ সিরিয়ান পাউন্ডের নতুন নোটগুলো প্রচলিত হবে।
এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে মুদ্রার সরবরাহ ব্যবস্থা সহজ করা। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পুরোনো মুদ্রাগুলো পর্যায়ক্রমে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলো পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কয়েক মাসের তীব্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে। এর মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটে আসাদ পরিবারের ৫৪ বছরের শাসনের। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে স্বৈরাচারী শাসনের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। নতুন এই মুদ্রা প্রবর্তন সেই প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তবে কেবল নোট পরিবর্তন করলেই সিরিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতির চিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বাজার স্থিতিশীল করতে হলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং শিল্প উৎপাদন পুনর্গঠন করা জরুরি। সিরিয়ার সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন মুদ্রার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
নতুন এই ব্যাংকনোট প্রবর্তন সিরিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন আশার প্রতীক
