ওয়াশিংটন, ২০ জানুয়ারী :ওয়াশিংটন থেকে নতুন নির্দেশনা এসেছে, যা বাংলাদেশের অনেক নাগরিকের জন্য আমেরিকায় যাওয়ার পথ আরও কঠিন করে তুলেছে। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাঁরা নতুন B1/B2 (ব্যবসা বা পর্যটন) ভিসা পাবেন, তাঁদের অবশ্যই ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ডেবল বন্ড জমা দিতে হবে। এই বন্ড ভিসা শর্ত মেনে সময়মতো ফিরে এলে ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে যাঁদের ভিসা ইস্যু হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।এই নিয়মের পিছনে মার্কিন সরকারের যুক্তি হলো, বাংলাদেশি ভিসা হোল্ডারদের মধ্যে উচ্চ চাহিদা হার । ২০২৩-২৪ অর্থবছরে B1/B2 ভিসায় বাংলাদেশিদের চাহিদার হার ছিল প্রায় ৫.৭৩ থেকে ৬.৮৬ শতাংশ, যা বিশ্ব গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট অনুসারে, এই নিয়ম ভিসা অপব্যবহার রোধ করবে।কিন্তু এই নিয়ম বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের প্রতি মাথাপিছু আয়ের তুলনায় ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা) বন্ড অত্যন্ত বোঝা। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই অঙ্ক জোগাড় করা অসম্ভব। ফলে পর্যটন, ব্যবসায়িক সফর, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভ্রমণ বা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়া অনেকের জন্য দূরের স্বপ্ন হয়ে যাবে।বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, আমেরিকা বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। ব্যবসায়িক সফর কমে গেলে নতুন অর্ডার, মার্কেট এক্সপ্লোরেশন বা কনফারেন্সে যোগদান কমবে। এতে ছোট-মাঝারি উদ্যোগের ক্যাশ ফ্লো-তে চাপ পড়বে এবং অনেকে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকবেন।আরও বড় প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সের ওপর। আমেরিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৩.৫ লক্ষের কাছাকাছি। এঁদের অনেকে বি-১/বি-২ ভিসা নিয়ে গিয়ে পরে স্থায়ী হয়েছেন। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমতে পারে। আমেরিকা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। এই প্রবাহ কমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।বাংলাদেশের অর্থনীতি রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এই নিয়মে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, বন্ড শুধুমাত্র ভিসা অনুমোদনের পর দিতে হবে এবং আগাম টাকা দেওয়ার নামে প্রতারণা থেকে সাবধান থাকতে হবে।এই নিয়ম বাংলাদেশিদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে রাখতে এখন দরকার সতর্ক পরিকল্পনা ও বিকল্প পথ খোঁজা।
