নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে ভারত সরকার দ্রুতগতিতে নাগরিকদের, বিশেষ করে মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীদের, দেশে ফিরিয়ে আনার অভিযান চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এএনআই (ANI)-এর একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে শিরাজ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের এক এমবিবিএস ছাত্রী বলেছেন যে, তাঁর এলাকায় পরিস্থিতি “সম্পূর্ণ স্বাভাবিক” ছিল। এই বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচারিত ভয়াবহ ছবির সঙ্গে সরাসরি বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।সাক্ষাৎকারে ওই ছাত্রী (যাঁর নাম সংবাদ সংস্থা প্রকাশ করেনি) বলেন, “আমি শিরাজ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে MBBS পড়ছি। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক।তবে কোনও ইন্টারনেট সার্ভিস নেই।আমরা বিক্ষোভের কথা শুনেছি, কিন্তু নিজের চোখে কিছু দেখিনি।” তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে কোনও প্রতিবাদ বা অশান্তি চোখে পড়েনি—প্রধান সমস্যা ছিল যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এই ছাত্রী ১৬ জানুয়ারি দিল্লি বিমানবন্দরে প্রথম দফার উদ্ধার ফ্লাইটে ফিরে এসেছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইরানের পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। ২০২৫-এর শেষ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে রিয়ালের মূল্য পতন, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষের কারণে দেশজুড়ে অশান্তি ছড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও রিপোর্ট অনুসারে, হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। তেহরান, শিরাজ সহ বিভিন্ন শহরে রাত্রিকালীন প্রতিবাদ, আগুন ও নিরাপত্তাবাহিনীর দমনমূলক অভিযানের ভিডিও প্রচারিত হয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ভারতীয় দূতাবাস ১৪ জানুয়ারি অ্যাডভাইজরি জারি করে নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের পরামর্শ দেয়।প্রথম দফায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী ফিরেছেন, যাদের অনেকে শিরাজ, তেহরান ও আরাকন থেকে। কেউ কেউ রাতে রাস্তায় আগুন ও প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন। তবে ANI-এর সাক্ষাৎকারে উল্লিখিত ছাত্রীর বক্তব্য অনুসারে, শিরাজের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক ছিল—বিক্ষোভ হয়তো নির্দিষ্ট এলাকা বা রাতের সময় সীমাবদ্ধ।এই দ্বৈত চিত্র মিডিয়ার সেনসেশনাল রিপোর্টিংয়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। বিক্ষোভের দৃশ্য ও নিহতের সংখ্যা বেশি ছড়ায়, কিন্তু স্থানীয় স্বাভাবিকতার গল্প প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। ভারত সরকারের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়—সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি অপরিহার্য। তবে প্রথম হাতের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বা সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।ইরানের সংকট এখনও চলমান। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা—সংবাদের একক দৃষ্টিকোণের ওপর অন্ধ বিশ্বাস না করে বহুমুখী তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।

