নারীর আধুনিকরণ ও গণমাধ্যম নিয়ে মিশরের কায়রোতে OIC সম্মেলন আয়োজন করে

নারীর আধুনিকরণ ও গণমাধ্যম নিয়ে মিশরের কায়রোতে OIC সম্মেলন আয়োজন করে

কায়রো, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (Organization of Islamic Cooperation বা OIC) আজ মিশরের রাজধানী কায়রোতে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় ও গণমাধ্যমের বয়ানকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ওআইসি’র ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রে নারীর অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পৃষ্ঠপোষকতায় এই দু’দিনব্যাপী সম্মেলন (১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশরের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর উইমেন (NCW) এবং ওআইসি’র অধীনস্থ উইমেন্স ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (WDO) যৌথভাবে আয়োজন করছে। সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ শিরোনাম — “Releasing Religious and Media Discourse and its Impact on Protecting and Promoting Women’s Rights in the Member States of the Organization of Islamic Cooperation”।এতে আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম শেখ আহমদ আল-তায়েব, মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর উইমেনের প্রেসিডেন্ট কাউন্সেলর আমাল আম্মার এবং ওআইসি’র ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই সম্মেলন ইসলামী নীতি ও মূল্যবোধের আলোকে টেকসই নারী ক্ষমতায়ন, নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ওপর জোর দেবে।

ওআইসি’র জেনারেল সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় বয়ান ও গণমাধ্যমের ভূমিকাকে পুনর্গঠন করে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ওআইসি’র অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে এই সম্মেলনকে “High-Level Cairo Conference to Modernize Women’s Rights Discourse” হিসেবে উল্লেখ করে যোগদানের কথা জানানো হয়েছে।তবে এই উদ্যোগ নিয়ে কিছু মুসলিম ব্যক্তিত্ব ও পর্যবেক্ষকের মধ্যে সতর্কতা ও সমালোচনাও দেখা গেছে।

একজন আরবি ভাষায় মন্তব্যকারী উল্লেখ করেছেন, “সমস্যা শিরোনামে নয়, বরং কে এই আধুনিকীকরণের সংজ্ঞা দেবে এবং কোন মানদণ্ডে তা করবে। ইসলামী প্রেক্ষাপটে নারী ক্ষমতায়নের জন্য বাইরে থেকে তৈরি টেমপ্লেট আমদানি বা জোরপূর্বক বিশ্বমানের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং প্রকৃত ন্যায়বিচার, পরিবার ও মর্যাদা রক্ষাকারী নীতি এবং অধিকারের সঙ্গে দায়িত্বের সমন্বয় প্রয়োজন।”এই সম্মেলনের ফলাফল ও সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে ওআইসি সদস্য দেশগুলির নারী নীতি ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply