গাজার শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলো ৫০ টির অধিক দেশ আমেরিকার আহ্বানে

গাজার শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলো ৫০ টির অধিক দেশ আমেরিকার আহ্বানে

যুক্তরাজ্য|২৮ শে জানুয়ারি |যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অফ পিস (Board of Peace)একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মূলত গাজা যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের (Gaza Peace Plan) অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে। এটি জাতিসংঘের (UN) সমান্তরাল বা বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনে কাজ করবে।ট্রাম্প প্রথমে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই ধারণা প্রস্তাব করেন।

গাজা শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার পর (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে বিভিন্ন দেশকে আমন্ত্রণ জানানো শুরু হয়।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চার্টার স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হয় ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এ সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর পাশাপাশি।
বর্তমানে (জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত) প্রায় ২৫-৩০টি দেশ ফাউন্ডিং মেম্বার হিসেবে যোগ দিয়েছে বা সম্মতি জানিয়েছে। প্রথম দফায় ঘোষিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সহ আলবেনিয়া,আর্জেন্টিনা,আর্মেনিয়া,আজারবাইজান,বাহরাইন, বেলরুশ,বুলগেরিয়া,কম্বোডিয়া,মিশর,,হাঙ্গেরি,ইন্দোনেশিয়া
জর্ডান,কাজাখস্তান,কসোভো,কুয়েত,মঙ্গোলিয়া,মরক্কো,পাকিস্তান
প্যারাগুয়ে,কাতার,সৌদি আরব,তুরস্ক,সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE),উজবেকিস্তান,ভিয়েতনাম
আরও কিছু দেশ যোগ দিচ্ছে যেমন ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ইত্যাদি সাম্প্রতিক ঘোষণা। মোট ৫০-৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, কিন্তু ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ যেমন ফ্রান্স, জার্মানি সুইডেন, নরওয়ে, ও , কানাডা, ভারত ইত্যাদি এখনও যোগ দেয়নি । ইসরায়েলও যোগ দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু হয়েছে দাভোসে চার্টার স্বাক্ষরের মাধ্যমে।


প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়েছে গাজার পুনর্গঠন দিয়ে। রাফাহ ক্রসিং গাজা-মিশর সীমান্ত জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহ থেকে আগামী সপ্তাহে উভয় দিকে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক মেয়াদ ৩ বছর, $১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অবদান দিলে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়া যাবে। ট্রাম্প চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এই বোর্ড অফ পিসকে অনেকে ট্রাম্পের “ব্যক্তিগত” বা “প্রভাবশালী” সংস্থা বলে সমালোচনা করছেন, কারণ এটি জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। গাজার পুনর্গঠনে নতুন শহর, বন্দর, বিমানবন্দর, রাস্তা ইত্যাদির পরিকল্পনা আছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে এটি আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করতে পারে।যোগদানকারী দেশগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ ও কিছু ছোট দেশ বেশি। এটি গাজার রাফাহ ক্রসিং খোলার মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ। আরও দেশ যোগ দিতে পারে ভবিষ্যতে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply