রামাল্লাহ | ৩ ফেব্রুয়ারি: যুদ্ধবিরতির পরও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে (২৭ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইসরায়েলি বোমা হামলায় অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৮৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১৩৬ জন।ওআইসি’র ‘ইসরায়েলি অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের মিডিয়া অবজারভেটরি’র ১১৪তম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সমাবেশ, বাড়িঘর ও শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ গত যুদ্ধবিরতির আগের গণহত্যার দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই হামলাগুলো বেসামরিক এলাকা ও জনসমাগমের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।একই সপ্তাহে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। অবজারভেটরির হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে পশ্চিম তীরে মোট ১,২৮৫টি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০৯টি অভিযান, ১১০টি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং ৮০০-এর বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস করে ৩৫টি বাড়ি দখল করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি সহায়তা ও সুরক্ষা ছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।ওআইসি’র প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭২,৮৮৬ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহের হামলাগুলো যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

