২০ জানুয়ারী: গাজায় চলমান যুদ্ধে সাংবাদিকদের উপর হামলা এক অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে, যা ঐতিহাসিক যুদ্ধগুলোর চেয়েও ভয়াবহ। জাতিসংঘের স্বীকৃত প্যালেস্টাইনীয় কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিবেদন অনুসারে, গত দু’বছরে গাজায় প্রায় ৩০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (৬৯-৭৯ জন, ৪ বছরে), দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (৬৭-৬৯ জন, ৬ বছরে), ভিয়েনাম যুদ্ধ (৬৩ জন, ২০ বছরে) এবং অন্যান্য যুদ্ধগুলোর মোট সাংবাদিক হত্যার সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই তথ্য কমিটি টু প্রটেক্ট Commite to Protect Journalist এর তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় ২৪৯ জনের বেশি সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সাফার পোস্টে একটি ছবি রয়েছে যাতে একটি বোমা বিস্ফোরিত ‘প্রেস’ চিহ্নিত গাড়ি দেখা যায়, যা সাংবাদিকদের উপর লক্ষ্যবস্তু হামলার প্রমাণ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ব কি মধ্যপ্রাচ্যের সাংবাদিকদের হত্যাকে নিন্দা করবে, নাকি এটি ‘জটিল’ বলে এড়িয়ে যাবে? এই প্রতিবেদনের থ্রেডে আরও উল্লেখ আছে যে ইসরায়েল গাজায় ৭০০ জনের বেশি সাংবাদিকের আত্মীয়কে হত্যা করেছে, যা প্যালেস্টাইনীয় সাংবাদিক সিন্ডিকেটের প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত।
এটি সাংবাদিকতাকে দমন করার জন্য সম্মিলিত শাস্তির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।গাজায় সাংবাদিকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। সিপিজে-র তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ১২৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৮৬ জন।
এই যুদ্ধ সাংবাদিকতার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক বলে চিহ্নিত। হামলা, আটক, আঘাত এবং মিডিয়া অফিসের ধ্বংস সত্য প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।এই প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় সরকার এই গণহত্যাকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যেখানে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র বিক্রি একটি প্রধান কারণ। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ইসরায়েলে রকেট এবং বিস্ফোরক রপ্তানি করছে।
আদানি-এলবিট যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ড্রোন এবং অস্ত্র সরবরাহ চলছে, যা গাজায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২৪ সালে ভারত ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির ৩৭ শতাংশ গ্রহণ করেছে, কিন্তু এখন ভারত নিজেও সরবরাহকারী। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির অংশ, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও সংকটে। ২০২৫ ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ভারত ১৫১তম স্থানে রয়েছে, স্কোর ৩২.৯৬।
সাংবাদিকদের উপর সহিংসতা, মিডিয়া মালিকানার একচেটিয়াকরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব এর কারণ। বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটি আরও খারাপ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার সত্য প্রকাশ করা কঠিন, এবং ভারতীয় মিডিয়া এটি বোঝে না।এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন।
