যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং সাসপেনশন: ৭৫টি দেশের উপর

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং সাসপেনশন: ৭৫টি দেশের উপর

২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি অভূতপূর্ব ঘোষণা করে—৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (স্থায়ী বসবাসের ভিসা, যেমন গ্রিন কার্ড) প্রসেসিং অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। এই সাসপেনশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, হাইতি, মিশর, থাইল্যান্ডসহ আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অনেক দেশ অন্তর্ভুক্ত। আর ভারতীয় উপমহাদেশে বাদ থাকছে ভারতসহ চীন, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ। 
তবে টুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা বিজনেসের মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এর আওতায় পড়ে না।
প্রধান কারণ হলো  (Public Charge) নিয়মের কঠোর প্রয়োগ। এই নিয়ম অনুসারে, যে ইমিগ্র্যান্টরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সুবিধা (ওয়েলফেয়ার, মেডিকেড, ফুড স্ট্যাম্প ইত্যাদি) নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হয়, তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে পাবলিক বেনিফিট ব্যবহারের হার অনেক বেশি, যা আমেরিকান করদাতা উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, “এই প্রশাসন আমেরিকার ইমিগ্রেশন সিস্টেমের অপব্যবহার বন্ধ করতে চায়, যাতে বিদেশিরা আমেরিকানদের সম্পদ লুট না করে।”
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে। নভেম্বর ২০২৫-এ সারা বিশ্বের কনস্যুলেটগুলোতে একটি বার্তা পাঠানো হয়, যাতে পাবলিক চার্জ স্ক্রিনিংকে আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ এই অভ্যন্তরীণ মেমো প্রকাশ্যে আসে এবং ফক্স নিউজের মাধ্যমে প্রথম রিপোর্ট হয়। সাসপেনশন চলবে যতক্ষণ না পুরো প্রসেস রিভিউ করে নতুন গাইডলাইন তৈরি হয়।
এটি প্রধানত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির অংশ। যদিও সরাসরি প্রেসিডেন্টিয়াল প্রোক্লামেশন নয়, তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি মার্কো রুবিও এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনুমোদিত। এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ইমিগ্রেশন নীতি—২০১৯ সালে তিনি প্রথমবার পাবলিক চার্জের সংজ্ঞা বাড়িয়েছিলেন, যা বাইডেন আমলে কিছুটা শিথিল হয়েছিল। ২০২৫-এ ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে এসে তা আবার কঠোর করেন।
ট্রাম্প এটি ২০১৭-২০২০ সালের প্রথম টার্ম থেকেই এই চিন্তা ভাবনা করেন।তার পর তিনি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ২০২৫ সালের নভেম্বরে নতুন গাইডলাইন পাঠানো হয়। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৩৯টি দেশে ট্রাভেল ব্যান বাড়ানো হয়, তারপর জানুয়ারি ২০২৬-এসে একবারে ৭৫ টি দেশেকে ব্যান করা হলো।


এটি হঠাৎ মনে হলেও দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল। ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি লিগ্যাল ইমিগ্রেশনকেও কমাতে চায়। সাম্প্রতিক পাবলিক বেনিফিট ফ্রডের ঘটনা (যেমন মিনেসোটা’র ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ কেলেঙ্কারি), সোমালি ইমিগ্র্যান্টদের নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা এবং ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের আগে নিরাপত্তা-অর্থনীতির চাপ এটাকে ত্বরান্বিত করেছে। এটি ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ—যাতে শুধু স্বাবলম্বী ইমিগ্র্যান্টরাই আসতে পারে।এই সিদ্ধান্ত লক্ষাধিক মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। অনেকে পরিবারের সাথে মিলিত হতে পারবেন না। তবে প্রশাসনের দাবি, এটি আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply