বিতর্কের কেন্দ্রে আল-আমিন মিশন: বিতর্কিত সংস্থার মঞ্চে কর্ণধার; অভ্যন্তরে নৈতিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ!
বিতর্কিত সংবর্ধনা: ‘BASE’-এর অনুষ্ঠানে আল-আমিন মিশনের প্রধান
সম্প্রতি কলকাতার নিউ টাউনের রবীন্দ্র তীর্থে অনুষ্ঠিত ‘Precarity and Resistance: Bengali Muslim Experience and Contemporary India’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে আল-আমিন মিশনের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সেক্রেটারি এম নুরুল ইসলাম-এর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সম্মেলনের আয়োজক সংস্থা বেঙ্গলি একাডেমিয়া ফর সোশ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট (BASE) বাংলায় সমকামিতা প্রসারে যুক্ত। তবে যাকাতের অর্থে পরিচালিত আল-আমিন মিশনের প্রধানের সেখানে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানের আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
উল্লেখ্য, এম নুরুল ইসলামকে এই সংস্থার বিতর্কিত কার্যক্রম সম্পর্কে দৈনিক পত্রিকার পেপার কাটিং ও অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করা সত্ত্বেও তিনি ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আল-আমিন মিশন যেখানে ইসলামের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রদানের কথা বলে, সেখানে এমন একটি পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

আল-আমিন মিশন, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিমদের দেওয়া যাকাত ও দান-এর অর্থে, তার অভ্যন্তরে নৈতিক স্খলনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
◾হোস্টেলে সমকামিতার ঘটনা: প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মিশনের হোস্টেল এবং ম্যানেজমেন্টের মধ্যেও সমকামিতার (Homosexuality) মতো গুরুতর অনৈতিক ঘটনা ঘটছে। এমনকি এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
◾ইসলামী অনুশাসন নেই: প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ইসলামী অনুশাসন নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
◾ অর্থ তোলার চাপ: শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচুর অর্থ তোলার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।
এই অভিযোগগুলি আল-আমিন মিশনের ভিত্তিমূল, অর্থাৎ ইসলামী নৈতিকতা ও আমানত (Trust)-এর সঠিক ব্যবহারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
আল-আমিন মিশনের বিরুদ্ধে ওঠা সমকামিতা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগগুলি ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে চরম গুরুতর। ইসলামে সমকামিতাকে জঘন্যতম পাপ বা ‘ফাহিশা’ (Fahisha) বলে গণ্য করা হয়েছে।
১. কুরআনের সুস্পষ্ট বাণী
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’আলা লূত (আঃ)-এর জাতির ঘটনা উল্লেখ করে এই কাজকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। আল্লাহ বলেন:
> “আর (স্মরণ করো) লূতকে, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল: ‘তোমরা এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিকুলের মধ্যে কেউ করেনি?'”
> “‘তোমরা তো নারীদের ছেড়ে পুরুষদের কাছে কামপরায়ণ হয়ে আসছো! বরং তোমরা তো সীমা লংঘনকারী এক সম্প্রদায়।'”
> (সূরা আল-আ’রাফ, ৭: ৮০-৮১)
>
ইসলামী পণ্ডিতদের সর্বসম্মত মত, এই আয়াতগুলি সমকামিতাকে সুস্পষ্টভাবে চরম অশ্লীলতা ও পাপ কাজ হিসেবে ঘোষণা করে।
২. হাদীসে অভিশাপ
নবী মুহাম্মদ (সা.) সমকামিতার মতো কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। বিভিন্ন হাদীসে এ কাজে লিপ্তদের প্রতি অভিশাপ (Curse) দেওয়া হয়েছে এবং একে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
> “আল্লাহ্র রাসুল (সাঃ) বলেন, “যাকে তোমরা লূতের সম্প্রদায়ের কর্মে লিপ্ত দেখবে, তাকে এবং যার সাথে এটি করা হয়েছে, উভয়কেই হত্যা করো।”
> (সুনান আবি দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
>
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের কাজ ব্যভিচারের মতোই কঠিন শাস্তির যোগ্য (যদিও শাস্তির পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবে মতপার্থক্য রয়েছে)।
নেতৃত্বের কাছে সমাজের প্রশ্ন
যে প্রতিষ্ঠানকে মুসলিম সমাজ যাকাত ও দানের মাধ্যমে নৈতিক ও শিক্ষাগত বিপ্লব ঘটানোর দায়িত্ব দিয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিতর্কিত মঞ্চে উপস্থিতি এবং অভ্যন্তরে গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগএই দুইয়ের ফলে মুসলিম সমাজের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ নিয়ে এম নুরুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোন উত্তর আসেনি।
আল আমিন মিশনের দুর্নীতি নিয়ে বাংলাকাল একটি তদন্ত মূলক রিপোর্ট তৈরি করছে। এই প্রতিবেদন তার অংশ নয়। সেটি আলাদাভাবে প্রকাশিত হবে।
