কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে চিহ্নিত নন্দন নিলেকানি, নিখিল এবং নিতিন কামাথ সহ সি. এন. আর. রাও ।

কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে চিহ্নিত নন্দন নিলেকানি, নিখিল এবং নিতিন কামাথ সহ সি. এন. আর. রাও ।

বেঙ্গালুরু, ১০ সেপ্টেম্বর:

কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের গরমিলের তালিকায় নাম উঠল ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি এবং শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ সংস্থা জেরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথ ও নিতিন কামাথের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। কমিশনের অভ্যন্তরীণ তালিকা অনুযায়ী তাঁদের পারিবারিক তথ্যে অসংগতি ও অমিল ধরা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী, নন্দন নিলেকানি, তাঁর স্ত্রী রোহিণী নিলেকানি এবং তাঁদের সন্তান জাহ্নবী ও নিহার নিলেকানিকে ‘আনম্যাপড উইথ লাস্ট এসআইআর’ বিভাগে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নথির সঙ্গে যাদের নাম মেলানো সম্ভব হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে এই শ্রেণিবিন্যাস কার্যকর করা হয়েছে। নিলেকানি পরিবারের নাম বিটিএম লেআউট বিধানসভা কেন্দ্রের খসড়া তালিকায় রয়েছে।

অন্য দিকে জেরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথ, নিতিন কামাথ এবং তাঁদের মা রেবতী কামাথের ক্ষেত্রে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ‘পিতা-মাতার নামের অমিল’ হিসেবে বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশিষ্ট কন্নড় অভিনেতা শিবরাজকুমারের নির্বাচনী নথিতেও গরমিল ধরা পড়েছে। তবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যাতে প্রশাসনিক শুনানিকেন্দ্রে যেতে না হয়, সেজন্য আধিকারিকরা তাঁদের বাড়িতে গিয়েই প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচনী দপ্তর। বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে।

গত ২৪ অগস্ট প্রকাশিত কর্ণাটকের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১৯.৪ শতাংশ। নির্বাচনী প্যানেল আগেই জানিয়েছিল যে, তথ্যগত ত্রুটি থাকা বা পূর্ববর্তী তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র না পাওয়া প্রায় ৪৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হবে। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকরা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। সমস্ত আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শেষ হবে ২২ অক্টোবরের মধ্যে এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ২৭ অক্টোবর।

এসআইআরের তৃতীয় পর্যায়ের অধীনে যে ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া চলছে, কর্ণাটক তার মধ্যে অন্যতম। এর আগে ২০২৫ সালে বিহারে প্রথম দফার কাজ শুরু হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই এই সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই সংশোধনীর আইনি বৈধতা বহাল রাখলেও স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply