চার নেতাকে সাসপেন্ড করে এক্তিয়ার ভঙ্গের অভিযোগ, শোকজ ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি সভানেত্রীকে

চার নেতাকে সাসপেন্ড করে এক্তিয়ার ভঙ্গের অভিযোগ, শোকজ ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি সভানেত্রীকে

কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর:

রাজ্য নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে দলীয় চার নেতাকে একসঙ্গে বহিষ্কার করার অভিযোগে এবার ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী সোমা ঘোষকে শোকজ করল রাজ্য বিজেপি। তাঁর এই পদক্ষেপকে স্পষ্টতই এক্তিয়ার বহির্ভূত ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্য নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে এমন একক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে এবং তাঁকে কেন দল থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করতে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত চিঠিতে কড়া ভাষায় এই শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা এলাকার চার দলীয় পদাধিকারীকে নিয়ে। সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা সভানেত্রী সোমা ঘোষ। যে চার নেতার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল তাঁরা হলেন রামনগরের ২২৭ নম্বর বুথের সভাপতি বিজয় দাস, ২২৪ নম্বর বুথের সভাপতি সঞ্জিত শাসমল, ২৩৭ নম্বর বুথের সভাপতি অমিত সর্দার এবং ভাদুরা অঞ্চলের বিজেপি নেতা অশোক কর্মকার। জেলা সভানেত্রীর জারি করা চিঠিতে তাঁদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর সব অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

তবে ফলতা বিধানসভার ওই চার গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নেতাকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার আগে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। রাজ্য নেতৃত্বের নজর এড়িয়ে সরাসরি জেলা স্তরে এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। রাজ্য নেতৃত্ব মনে করছে, কোনো পদাধিকারীকে দল থেকে বহিষ্কারের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দিষ্ট সাংবিধানিক এক্তিয়ার জেলা সভাপতির থাকে না। ফলে সেই বিধিবদ্ধ নিয়ম লঙ্ঘন করে জেলা সভানেত্রী তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেই দলীয় সূত্রের দাবি।

রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্য নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জেলা সভানেত্রীর নেওয়া এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দলীয় সংবিধান বিরোধী এবং অত্যন্ত অনভিপ্রেত। এই ধরনের অসাংগঠনিক পদক্ষেপের কারণে প্রকাশ্যে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। চিঠিতে সাফ জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তিনি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করে একক ক্ষমতাবলে এমন পদক্ষেপ করলেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছে দল।

স্থানীয় দলীয় সূত্রে এও জানা যাচ্ছে যে, ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলায় সোমা ঘোষের বিরুদ্ধে দলের পুরনো কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ বহু দিন ধরেই বাড়ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের দলে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই আবহেই দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ সামাল না দিয়ে একতরফাভাবে চার বুথ ও অঞ্চল স্তরের নেতাকে বরখাস্ত করায় ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শেষ পর্যন্ত জেলা সভানেত্রীর বিরুদ্ধেই কড়া বার্তা দিল রাজ্য বিজেপি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply