জাতীয় মহিলা কমিশনের কর্মশালায় হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর

জাতীয় মহিলা কমিশনের কর্মশালায় হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর

তিরুঅনন্তপুরম, ১০ সেপ্টেম্বর: ভারতের ঐক্য কোনো একক বা সমজাতীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈচিত্র্যের মধ্যেই এর প্রকৃত ভিত্তি নিহিত রয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশন আয়োজিত কর্মশালায় কেরলের মহিলা বিধায়কদের প্রতি আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এই মন্তব্য করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। হরিয়ানার ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ডে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় কেবল হিন্দি ভাষার ব্যবহার এবং অহিন্দিভাষী প্রতিনিধিদের প্রতি অসহযোগিতার প্রতিবাদে কেরলের মহিলা বিধায়কদের ওয়াকআউটের ঘটনার পর তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, একটি জাতীয় সম্মেলনে জোরপূর্বক হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া এবং অহিন্দিভাষী রাজ্য থেকে আসা প্রতিনিধিদের হেনস্থা করা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মূলে চরম আঘাত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান প্রণেতারা এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন যার শক্তি কোনো আরোপিত অভিন্নতা থেকে আসবে না, বরং আসবে বৈচিত্র্যের ঐক্য থেকে। সেখানে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জাতীয় সংহতিকে দুর্বল না করে বরং আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত হলো বৈচিত্র্যময় ভাষাগত ঐতিহ্যের একটি সমন্বিত ইউনিয়ন, কোনো একক সত্তা বা মনোলিথিক কাঠামো নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সাংবিধানিক সমতাই জাতীয় মঞ্চের মূল নীতি হওয়া উচিত, কোনো ভাষাগত আধিপত্য নয়। দেশের এই বৈচিত্র্য ভারতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়, বরং এটিই হলো দেশের মূল ভিত্তিপ্রস্তর।

এর আগে মঙ্গলবার ফরিদাবাদে অনুষ্ঠিত জাতীয় মহিলা কমিশনের দুই দিনব্যাপী কর্মশালা থেকে ওয়াকআউট করেন কেরলের বিধায়কদের একটি প্রতিনিধিদল। বিধায়কদের অভিযোগ, কর্মশালার যাবতীয় অধিবেশন কার্যত একতরফাভাবে কেবল হিন্দিতেই পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং অহিন্দিভাষী প্রতিনিধিদের জন্য কোনো ধরনের অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে দক্ষিণ ভারত ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো থেকে উপস্থিত বিধায়কদের পক্ষে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বোঝা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ওয়াকআউটকারী প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেরলের দুই মন্ত্রী বিন্দু কৃষ্ণ ও কে এ তুলসী, ডেপুটি স্পিকার শানিমল ওসমান এবং বিধায়ক কে কে রেমা, ফাতিমা তাহলিয়া, বিদ্যা বালকৃষ্ণান ও ঊষা বিজয়ন। বিধায়করা স্পষ্ট জানান যে তাঁদের বিরোধিতা কোনো নির্দিষ্ট ভাষার বিরুদ্ধে নয়, বরং অহিন্দিভাষী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ন্যূনতম পরিকাঠামো বা সংবেদনশীলতা না থাকার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ। অধিবেশনে বিধায়কদের জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গভীর আলোচনার বদলে অতি সাধারণ বিষয় রাখা হয়েছিল বলেও তাঁরা ক্ষোভ জানান।

মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী বিন্দু কৃষ্ণ অধিবেশন চলাকালীন এই সংক্রান্ত প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত কিছু অংশগ্রহণকারী সে সময় হিন্দিই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান তুলতে শুরু করেন। এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে কেরলের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের মতো সংস্থায় হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply