দিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর:
অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসে বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য খর্ব করার ডাক দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব স্বাধীন কারেন্সি সিস্টেম বা মুদ্রাব্যবস্থা চালুর পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন প্রভাবকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফর।আমেরিকার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে তাঁর এই সফর আন্তর্জাতিক মহলের গভীর নজরে রয়েছে।
সফরকালে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন পেজেশকিয়ান।সেখানে তিনি বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন প্রভাব ও অর্থনৈতিক দাদাগিরির বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত ও স্বাধীন করতে একটি স্বতন্ত্র কারেন্সি সিস্টেম গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মধ্যেই আজ তকের গ্রুপ এডিটর (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) গীতা মোহনের সঙ্গে বিশেষ ও খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।সেই আলোচনায় ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতময় অবস্থান এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে তেহরানের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান।বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাকে কীভাবে দেখছে এবং মার্কিন চাপের মুখে তাদের পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশদে কথা বলেন তিনি।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৈঠকের পর দুই নেতার উষ্ণ সম্পর্কের ছবিও সামনে এসেছে।সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দুই দেশের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট কৌশলগত চাবাহার বন্দর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই অঞ্চলের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট বার্তা দেন যে কোনো সংঘাতেরই সমাধান যুদ্ধের মাধ্যমে সম্ভব নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

