কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর:
দুর্গাপূজার প্রাক্কালে রাজ্যের দুটি হাইভোল্টেজ বিধানসভা আসন নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল বামফ্রন্ট।শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট কমিটির তরফে এক প্রেস বিবৃতি জারি করে এই দুই কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম সর্বসমক্ষে নিয়ে আসা হয়েছে।ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি।অন্য দিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের মনোনীত সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন পেশায় আইনজীবী নেতা সৈয়দ আসাদ আলী।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।ভোটগ্রহণের পর আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে।পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।ভবানীপুর কেন্দ্রটি নিজের হাতে রেখে নন্দীগ্রাম বিধায়ক পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেওয়ায় সেই কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে।অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্র থেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর।তিনি একই সাথে নওদা আসন থেকেও জয়ী হন।পরবর্তীতে তিনি নওদা কেন্দ্রটি নিজের কাছে রেখে রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করেন।ফলে এই দুই আসনেই উপনির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।
রেজিনগরে ইতিমধ্যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামিয়েছেন।এর আগে শুক্রবারই জাতীয় কংগ্রেসের তরফে রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি এবং নন্দীগ্রামে মিলন প্রধানের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।কংগ্রেসের পর এবার বামফ্রন্টও এই দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারের লড়াইয়ে নেমে পড়ল।তবে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি কিংবা বিরোধী তৃণমূল শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই দুই আসনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়নি।সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার আগে রাজ্যের এই দুই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ দ্রুত চড়তে শুরু করেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
