মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী গোপন প্রচারণায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ক্লদ এআই ব্যবহার

মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী গোপন প্রচারণায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ক্লদ এআই ব্যবহার

দুবাই, ১২ সেপ্টেম্বর:

মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা সংস্থা অ্যানথ্রোপিকের তৈরি চ্যাটবট ক্লদ ব্যবহার করে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী এক গোপন প্রচারণা অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অ্যানথ্রোপিকের প্রকাশিত একটি থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এই অভিযানে ভুয়ো মানবাধিকার সংস্থা তৈরি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নকল অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বক্তব্য প্রস্তুত করা এবং ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের মতো কর্মকাণ্ডে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অত্যন্ত জোরালো প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন হলো এই গোপন প্রচারণাটি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে। ওই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে উচ্চপদস্থ আমিরাতি কর্মকর্তাদের এই কাজের প্রত্যক্ষ গ্রাহক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অ্যানথ্রোপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের অপব্যবহারের মোট নয়টি ঘটনার তথ্য খতিয়ে দেখা হয়, যার মধ্যে এটি অন্যতম। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার প্রকাশ্যে এই অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি এবং এসব দাবির কোনো স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, যেহেতু তাদের নিজস্ব এআই পণ্য ব্যবহার করে এই কাজ করা হয়েছে, তাই এটি তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফল। বিষয়টি নজরে আসার পরই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন অপব্যবহার রুখতে বাড়তি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থাকেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এক অপারেটর ক্লদ ব্যবহার করে ডেডশট নামের একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বা এআই পারসোনা পরিচালনা করত। এই সত্তাটিকে এমন নির্দেশিকা দিয়ে সাজানো হয়েছিল যাতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে বিশ্বমঞ্চে দুর্বল করার লক্ষ্যে সমন্বিত অভিযান চালানো যায়। গোটা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০০টি ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাকাউন্ট কাজে লাগানো হয়েছিল।সুইজারল্যান্ডের একটি আসল মানবাধিকার সংস্থার পরিচয় নকল করে একটি ভুয়ো ফ্রন্ট সংস্থা খোলা হয় এবং সেখান থেকে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় যা দেখে মনে হয় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কোনো সংস্থা তা তৈরি করেছে।

পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের জন্য সাক্ষ্য বা বক্তব্য তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হয়েছিল এই ক্লদ এআই। অ্যানথ্রোপিকের মতে, এই বক্তব্য এমন কৌশলে তৈরি করা হয়েছিল যাতে সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম কোনোভাবেই উল্লেখিত না থাকে। সুদান যুদ্ধে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ফাইল তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে। সুদানের একটি বৈধ মানবাধিকার গোষ্ঠীর পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রসংঘে বয়ান জমা দেওয়ার কাজও এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।

তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৮ জন সদস্য এবং বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিকের বিশদ ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি করার কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক নির্দেশিকা ও অভ্যন্তরীণ তথ্যকে গোয়েন্দা তথ্যের ধাঁচে পরিণত করতে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নথি সাজাতে ক্লদকে ব্যবহার করা হয়েছিল। অ্যানথ্রোপিক এই অভিযানকে তাদের নিজস্ব মূল্যায়নে ক্যাটাগরি থ্রি বা মাঝারি স্তরের প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে এসব বক্তব্য বা সংগৃহীত নথি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পেরেছিল কি না অথবা নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply