নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশবেড়িয়া: রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটে এবার সরাসরি প্রভাব পড়ল সাধারণ মানুষের সস্তার হেঁশেলে। বাঁশবেড়িয়া পুরসভা পরিচালিত ‘মা ক্যান্টিন’ দুটিতে দেখা দিয়েছে গ্যাসের চরম অভাব। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, যে কোনও মুহূর্তে ক্যান্টিন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিমধ্যেই কোথাও কোথাও নোটিশ ঝোলানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে আতঙ্কে রয়েছেন কয়েকশ মানুষ যারা প্রতিদিন মাত্র ৫ টাকায় দুপুরের খাবার পান।
সঙ্কটে পাঁচ টাকার ডিম-ভাত
বাঁশবেড়িয়া পুরসভা পরিচালিত দুটি ক্যান্টিনে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ জন মানুষ ডিম-ভাতের মিল পেয়ে থাকেন। মূলত ভবঘুরে, দিনমজুর এবং অভাবী মানুষের কাছে এই ক্যান্টিনই ছিল জীবনরেখা। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পরিষেবা।
ক্যান্টিন কর্মীদের বয়ান অনুযায়ী:
- গত দুই-তিন দিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চরম আকার নিয়েছে।
- পুরসভার পক্ষ থেকে ছোট সিলিন্ডার দিয়ে কোনোক্রমে আজকের রান্না করা সম্ভব হয়েছে।
- শনিবার পরিষেবা চালু রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
ক্ষোভ ও অসহায়তা
ক্যান্টিনের রান্নাঘরের কর্মী দেবী নন্দন জানান, “আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস না পাওয়া গেলে বাধ্য হয়েই আমাদের ঝাঁপ ফেলতে হবে।” অন্যদিকে, ক্যান্টিনে নিয়মিত খাবার খেতে আসা এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, “ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ক্ষুধার্ত থাকতে হবে। ৫ টাকায় খাবার না পেলে আমাদের মুড়ি বা চিঁড়ে খেয়ে দিন কাটাতে হবে।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
গ্যাসের এই আকাল নিয়ে সরাসরি কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করেছেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ:
”কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল মনোভাব এবং ‘তুঘলকি’ নির্দেশের কারণেই আজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। গ্যাস না পাওয়া গেলে ক্যান্টিন বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
তবে চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন যে, পুরসভার পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে দ্রুত গ্যাসের ব্যবস্থা করে পরিষেবা সচল রাখা যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্যান্টিনে চাল বা ডিমের কোনও অভাব নেই, একমাত্র রান্নার গ্যাসের অভাবেই এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এখন দেখার, পুরসভার তৎপরতায় গ্যাস জোগাড় করে কয়েকশো মানুষের দুপুরের আহার নিশ্চিত করা যায় কি না, নাকি প্রশাসনের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত বন্ধই হয়ে যায় এই জনপ্রিয় প্রকল্প।
