নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিয়া: শিল্প শহর হলদিয়ায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস (LPG) অবৈধভাবে অটোতে ভরার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সুতাহাটা, গিরিশ মোড়, দুর্গাচক এবং মঞ্জুশ্রীর মতো জনবহুল এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই চলছে এই বিপজ্জনক কারবার। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তরের এই ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকাশ্যেই চলছে রিফিলিং-এর কাজ
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ছোট ছোট দোকানে অটো চালকরা নিজেদের সিলিন্ডার নিয়ে আসছেন। এরপর একটি বিশেষ পাইপের মাধ্যমে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে অটোতে গ্যাস ভরা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক বা গৃহস্থালির সিলিন্ডার থেকে এভাবে অটোতে গ্যাস ভরার জন্য তাদের কাছে কোনো ট্রেড লাইসেন্স বা সরকারি অনুমতি নেই। মূলত লাভের অংক বাড়াতেই এই ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা।
- বিরোধীদের সুর: বিরোধীদের দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ কাজ চললেও পুলিশ নির্বিকার। বিরোধী শিবিরের এক নেতার কথায়, “তৃণমূল জমানায় চুরি এবং বেআইনি কাজই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাসকদলের ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেট চলছে।”
- তৃণমূলের পাল্টা জবাব: অভিযোগ অস্বীকার করে শাসকদলের দাবি, এই সংকটের মূলে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের বক্তব্য, বাজারে প্রচুর গ্যাসের অটো নামানো হলেও পেট্রোল পাম্পগুলিতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করেনি কেন্দ্র। বাধ্য হয়েই চালকরা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। বিরোধীদের অভিযোগকে তারা ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বিপদের মুখে জনজীবন
বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা বাজারে এভাবে গ্যাস রিফিলিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। শিল্প শহরের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে এই কারবার চলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের মুখে। প্রশাসন কেন এখনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরাও।
এখন দেখার, এই প্রতিবেদন ও বিরোধীদের অভিযোগের পর প্রশাসন এই অবৈধ কারবার রুখতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
