বেঙ্গালোরে থাকা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন হেয়ারিং জন্য হঠাৎ বাড়ি আসার কারণে

বেঙ্গালোরে থাকা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন হেয়ারিং জন্য হঠাৎ বাড়ি আসার কারণে

বেঙ্গালুরু | ১ ফেব্রুয়ারি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার জন্য বারবার নিজের গ্রামে ফিরতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য অভিবাসী শ্রমিকরা। বেঙ্গালুরুর বহু অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ও আবাসনে কাজ করা এই শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই চারবারেরও বেশি পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে ফিরে এসেছেন। কিন্তু বারবার অনুপস্থিতির কারণে বেসরকারি কন্ট্রাক্টররা তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দিয়েছেন। ফলে দৈনিক রোজগারের উপর নির্ভরশীল এই পরিবারগুলির সামনে এখন খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের সংকট তৈরি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া থেকে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের এই বিশেষ অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের নামের পাশে নানা অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে। ঠিকানার অমিল, পুরোনো তালিকায় অনুপস্থিতি, বারবার স্থানান্তর ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে খুবই কম সময়ের মধ্যে—কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে—স্থানীয় বুথ অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনের টিকিট, যাতায়াত খরচ ও ছুটি ম্যানেজ করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কর্ণাটক বেঙ্গলি কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র সাম্প্রতিক সময়ে ৯,৪০০-এরও বেশি পশ্চিমবঙ্গের অভিবাসী শ্রমিক বেঙ্গালুরু থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যাঁরা গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি (GBA)-র সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থা ও ঠিকাদারদের অধীনে কাজ করেন। ঠিকাদারদের দাবি, এঁদের বারবার অনুপস্থিতির ফলে প্রতিদিনের আবর্জনা সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে, অ্যাপার্টমেন্টবাসীদের অভিযোগ বাড়ছে। ফলে অনেককেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, প্রথম দু’-একবার যাওয়ার পরও যখন আবার ডাক পড়েছে, তখন তাঁরা আর যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি। কারণ চাকরি হারালে পরিবারের মুখে অন্ন জোগানোই কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকে বলছেন, ভোটাধিকার বাঁচাতে গিয়ে জীবিকা হারানোর ঝুঁকি তাঁরা আর নিতে পারছেন না। আবার যাঁরা যাননি, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে রেশন কার্ড, আধার, বাসস্থান প্রমাণ ইত্যাদি সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।এই পরিস্থিতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের একাংশ বিশেষ ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে কম খরচে ও দ্রুত বাড়ি যাওয়া-আসা সম্ভব হয়। তবে এখনও পর্যন্ত সেই দাবি মানা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আরও নমনীয় ব্যবস্থা, অনলাইন যাচাই-বাছাই বা বিশেষ ছাড়ের সুযোগ থাকা উচিত ছিল। বর্তমান পদ্ধতি শ্রমিকদের জন্য অমানবিক ও অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply